ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ জাপানের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী সেনেগাল

জাপান সেনেগাল

স্পোর্টস রিপোর্টার : রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল এশিয়ার দল জাপান। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দলটি। আজ জাপানের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী সেনেগাল। প্রথম ম্যাচে পোলান্ডকে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছিল সেনেগালও। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দুই দলই আজ মুখোমুখি হচ্ছে জয়ের টার্গেট নিয়ে। আত্মবিশ্বাসের পারদও বেশ উপরে দল দুটির। অবশ্য এই ম্যাচের বিজয়ী দল এক ম্যাচ হাতে রেখে আজই নিশ্চিত করবে দ্বিতীয় রাউন্ড।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাপান ২-১ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়াকে। আর সেনেগাল একই ব্যবধানে পরাজিত করেছে পোল্যান্ডকে। যে কারণেআজ একাটেরিনবার্গ  এ্যারেনায় যে দল জয় পাবে তারাই দ্বিতীয় পর্বের নক আউটে খেলার টিকিট পেয়ে যাবে।  বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় ম্যাচটি শুরু হবে। এই দল দুটি মাঠের লড়াইয়ে যে সবাইকে মুগ্ধ করেছে তা নয়। তাদের সমর্থকরাও বিরল এক কৃর্তি গড়ে আকৃষ্ট  করেছে বিশ্ববাসীকে। মস্কোর সারানস্কে জাপানের জয়ের পর  সেখানে উপস্থিত জাপানি সমর্থকরা স্টেডিয়ামটির আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়ে সহজ করে দিয়েছে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাজকে। প্রথম ম্যাচে অবশ্য উভয় দলই ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মিডফিল্ডার কার্লোস সানচেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। অপরদিকে পোল্যান্ডের বিপক্ষে সেনেগালের জয়ে সহায়তা করেছে থিয়াগো চিওনেকের আত্মঘাতি গোল।  সেনেগালের পক্ষে অবশ্য জয় নির্ধারণি গোলটি করেছেন এম’বায়ে নিয়াং। পোল্যোন্ডের রক্ষণভাগে গ্রেজর্জ ক্রাইচোইয়াক ও  গোল রক্ষক ওইচেচ সেকজেসনির মধ্যে বল আদান প্রদানের সময় সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন তিনি। 

 ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করা এই সেনেগাল তারকা ব্লু সামুরাইদের বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রতি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। কারণ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত অংশগ্রহণকারী দলটির এখন প্রধান লক্ষ্য শেষ ষোল নিশ্চিত করা।  নিয়াং বলেন,‘ দলবদ্ধভাবে কাজ করার  সুফল আমি পেয়েছি। আমরা অবশ্যই এটি অব্যাহত রাখব। লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা অবশ্যই কাজ করে যাব। আমাদের দলটি বেশ ভাল। জাপান দলটিও বেশ মান সম্পন্ন। তবে তাদের সম্পর্কে ধারণা নেবার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সময় পেয়েছি। এখন আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

এদিকে প্রথম ম্যাচে তৃতীয় মিনিটের মাথায় সানচেজ বিদায় নেয়ায় ১০ জনের দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছে জাপান। তবে এবার সেগোলের প্রতি আক্রমনের দক্ষতা নিয়ে কিছুটা ভয়েই আছে তারা। ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো অন্তত তাই মনে করেন। তিনি বলেন,‘ তাদের (সেনেগাল) গতি এবং শারীরিক দক্ষতা অবশ্যই বিবেচনার বিষয়। তাদের বড় বৈশিষ্ঠ্য হল শৃঙ্খলা। দলগতভাবেই তারা আক্রমন রচনা করে। এমনিতে ব্যক্তিগত মেধার কারণে আফ্রিকান দলগুলোর একটি আলাদা নামডাক রয়েছে। তবে সাংগঠনিকভাবে যখন খেলে, তখন কিছুটা দুর্বলতা ফুটে ওঠে। কিন্তু সেনেগালের ক্ষেত্রে তেমন দুর্বলতা কম দেখা গেছে। তারা রক্ষণভাগের বিষয়ে যেমন বেশ মনোযোগী তেমনি প্রতি আক্রমনেও দুর্দান্ত।’

বিশ্বকাপের অতীত রেকর্ডে দেখা যায়  এশিয়ার কোন দল প্রথম দুই ম্যাচে জয়লাভ করেনি। ২০০২ সালের পর জাপান বিশ্বকাপের কোন ম্যাচে টানা জয় পায়নি। অপরদিকে সেনেগাল তাদের সর্বশেষ নয় ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল হজম করেছে মাত্র ৫টি। যার মধ্যে চারটি গোল খেয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এসে।  বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দুটি মাত্র আফ্রিকান দল তাদের প্রথম দুই ম্যাচে জয়লাভ করেছে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুন এবং ১৯৯৮ সালে নাইজেরিয়া এই সাফল্য অর্জন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ