ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুমুল বৃষ্টিতেও রাজপথ ছাড়েননি আন্দোলনরত শিক্ষকরা

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৫ জানুয়ারি ২০১৮ সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৩তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও এমপিওভুক্তির দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশে ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বৃষ্টিতে ভিজে প্রতীকী অনশন পালন করেন।
গতকাল শনিবার ছিল ননএমপিও শিক্ষকদের রাজপথে অবস্থানের ১৪তম দিন। অন্যান্য দিনের মত গতকালও সকাল থেকে রাজপথে অবস্থান নেন শিক্ষক কর্মচারীরা। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর ১২টার দিকে আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষক কর্মচারীরা রাস্তা ছাড়েননি। কাকভেজা হয়েও রাস্তায় অবস্থান করেন তারা। এসময় নারী শিক্ষকদেরও বৃষ্টিতে ভিজে রাজপথে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টিতে ভিজে আমরা অবস্থান নিয়েছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভেজার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
এর আগে শুক্রবার অবস্থান কর্মসূচির ১৩ তম দিনে আন্দোলনরত শিক্ষকরা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন, ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার, সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়, সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফুল হক লাভলু।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আমরা টানা ১৪ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করা হয়নি। আজ শনিবার প্রতীকী অনশন পালন করা হচ্ছে। দাবি আদায় না হলে সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু হবে। তিনি বলেন, রাজপথে খোলা আকাশের নিচে টানা ১৪ দিন আন্দোলন করে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ওপর আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হলে অনেক শিক্ষক গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়বে। এতে যদি কারো মৃত্যু হয় তবে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবির বিষয়টি অবহিত করে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। দাবি আদায় ছাড়া আমাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের যোগদানের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হয়েছে। আমরা ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে শিক্ষাকতা করছি। এখন যদি ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয় তবে আমাদের কী পরিণতি হবে? আমরা কোনো নীতিমালা বা কমিটি মানি না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা না তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা।
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১৪ দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টোপাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ