ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়া পৌর প্রিক্যাডেট স্কুলের সভাপতি-শিক্ষক দ্বন্দ্ব চরমে

বগুড়া অফিস: আন্তঃকোন্দলে পুড়ছে বগুড়া পৌর প্রিক্যাডেট স্কুল। স্কুলের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নাসিমুল বারি নাসিমের সাথে শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। সভাপতির হুমকী ধামকিতে আতংকিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা ইতোমধ্যেই পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তার আবেদন করেছেন।
জানাগেছে, বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় অবস্থিত বগুড়া পৌর প্রিক্যাডেট স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শহরের প্রানকেন্দ্র এবং বানিজ্যিক এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে কোটি টাকা মুল্যের সম্পদ। আর একারনেই এই প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদটি লোভনীয়। দুই বছর আগে শহর স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক নাসিমুল বারি নাসিম সভাপতি মনোনীত হন। অভিযোগ রয়েছে- তিনি সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের দুর্নীতি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। স্কুল ভবনে তিনি ব্যক্তিগত অফিসে বানিয়ে সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত সভাপতি ও তার কর্মীরা আড্ডা দেন।
আগামী ৩১ জুলাই সভাপতির মেয়াদ পূর্ণ হবে। ২য় মেয়াদে নাসিমুল বারি নাসিম সভাপতি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে শিক্ষকরা তাতে আপত্তি জানান। এনিয়ে শিক্ষকদের সাথে সভাপতি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠন সংক্রান্ত আগাম মিটিং করতে না পেরে সভাপতির কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবর রহমানের বাড়িতে গিয়ে হুমকী ধামকি ও অশালীন আচরন করেছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ- তার কথামত কাজ না করলেই সভাপতি তার কর্মীদের মাধ্যমে শিক্ষকদেরকে লাঞ্ছিত করে থাকেন। এসব কারনে শিক্ষকরা সভাপতির কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ফলে কয়েকদিন আগে কয়েকজন শিক্ষক পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগের বিষয়টি সভাপতি জানতে পেরে সভাপতি রোববার সকাল ১০ টায় শিক্ষকদের নিয়ে জরুরী মিটিং আহবান করেন। মিটিং-এ তিনি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে পুনরায় সভাপতি পদে থাকার জন্য শিক্ষকদের সমর্থন দাবি করেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকগন আগামী কমিটিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলে নাসিমুল বারি নাসিম যেকোন মূল্যে আবারো সভাপতি হবেন মর্মে শিক্ষকদেরকে জানিয়ে দেন। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে আবারো নতুন করে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবর রহমান জানান, রমজান মাসে ইফতার পার্টির নামে কমিটি গঠন নিয়ে আগাম মিটিং এর আয়োজনের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মিটিং-এ আসতে রাজী হননি। সভাপতি মিটিং করতে না পারার কারনে গত ২ জুন রাত ৮টার দিকে তার বাসায় কয়েকজন কর্মী পাঠিয়ে হুমকী ধামকী এবং অশালীন আচরন করেন।
বগুড়া পৌর পি-্রক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, সভাপতি প্রতিষ্ঠানের কোন নিয়ম মানতে চান না। তার ইচ্ছা মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। নিয়ম-নীতি না মেনে তিনি প্রতিষ্ঠানে তার অফিস করেছেন। সেখানে এসি লাগানো হয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে আড্ডা চলে। লাখ টাকার উপরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধের কোন উদ্যোগ নেন না। এছাড়াও তার লোকজন দিয়ে শিক্ষকদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকী ধামকী দিচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে শিক্ষকরা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে অভিযোগ করেছেন।
পৌর প্রিক্যাডেট স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক নাসিমুল বারি নাসিম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির মামলা চলমান রয়েছে প্রধান শিক্ষকের নামে। গত বুধবার প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবী করে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ম্যানেজিং কমিটির জরুরী বৈঠক ডেকে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ