ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রতিবন্ধী মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’র নামে চলছে চাঁদাবাজি

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়ীগেট কেডিএ আবাসিক এলাকায় প্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ছাত্র-শিক্ষক, অবকাঠামো, শিক্ষা উপরকরণ বা কোনো কার্যক্রম। এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এ মাদরাসার নামে করছে চাঁদাবাজি। 

এলাকাবাসীর অভিযোগসহ চাঁদা আদায়ের রশিদ হাতে পাওয়ার পর কথিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিন দেখা গেছে, ফুলবাড়ীগেট আলীম মাদরাসার পেছনে কেডিএ আবাসিকের জমি দখল করে কোন রকম একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে সামনে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। উক্ত ঘরের দরজায় ঝুলছে তালা তবে ভিতরে রয়েছে একটি শোয়ার খাট এবং একটি স্ট্যান্ড ফ্যান। 

প্রতিষ্ঠানের সামনে কয়েকটি দোকানে মাদরাসা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা দীর্ঘদিন এখানে মাদরাসার সাইনবোর্ড দেখলেও এর কার্যক্রম বা ছাত্র-ছাত্রী কখনো দেখিনি। তবে মাঝে মধ্যে দুই একজন অন্ধ ছেলে মেয়েকে দেখা যায়। যাদের কিছু দিন পরে আর দেখা যায়না। সামনের দোকানী শহিদুল ইসলাম বলেন, এটাকে মাদরাসা বলছেন অথচ আমাদের ছেলে-মেয়েদের আরবী শিক্ষা দিতে পারছি না। এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না। 

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,  ফুলবাড়ীগেট প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংস্থার পরিচালনায় চলছে কথিত এই প্রতিষ্ঠানটি। যার সভাপতি মোমরেজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হাওলাদার। এই দু’জন আবার এই মাদরাসারও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। অথচ মাদরাসার সাথে নেই এলাকার কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই দুই আলোচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংস্থার নামে বিভিন্ন সময় বালুর মাঠে মেলা এনে মেলার মাঠ থেকে ওঠা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর এই সংস্থার উন্নয়নের লক্ষে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হাওলাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ীগেট মীরেরডাঙ্গা বালুর মাঠে ১৮ ডিসেম্বর থেকে মাসব্যাপী চলে বিজয় মেলা। যেখান থেকে প্রতি রাতে সংস্থাকে ৩ হাজার করে টাকা দেয়া হতো বলে জানিয়েছিলেন মেলার মাঠ মালিক মনির ভূঁইয়া। 

অভিযুক্ত লোকমান হাওলাদার মেলার টাকার হিসেবে কাউকে দিতে পারিনি। এই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হাওলাদারের প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। যিনি নিজে স্বাক্ষর করে মাদরাসার নামে চাঁদা আদায় করছেন। এছাড়া যে রশিদে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে সেই রশিদের দেয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটিও অন্য প্রতিষ্ঠানের। এভাবে কেডিএ’র জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ঘর তুলে কোন অনুমোদন ছাড়াই সাইনবোর্ড দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজী করায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিয্ক্তু লোকমানের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদা আদায় এবং শিক্ষার্থীসহ অবকাঠামো না থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি ভোল পাল্টে কয়েক দিন আগে শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন বলে জানান। মেলার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। 

পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এই প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী অপর একটি সামাজিক সংস্থা জাতীয় দৃষ্টিহীন ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা (এনএসবিপি) এর নির্বাহী পরিচালক মাইন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তারা চাঁদাবাজী এবং ভিক্ষাবৃত্তি করছে। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তাদের কোন কার্যক্রম নাই বলেলই চলে। মাদরাসা সম্পর্কে বলেন, কেডিএ’র জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ঝুপড়ি ঘর তুলে ছাত্র-শিক্ষক, কোন স্বীকৃতী এবং অবকাঠমোগত পরিবেশ ছাড়াই মাদরাসা নাম দিয়ে তারা কালেকশন করছে শুনেছি।

কেডিএ নিবিড় আবাসিক সোসাইটি’র এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেডিএ’র জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ২০০৭ সালে খানজাহান আলী থানা প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংস্থার নামে ও পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং নামে প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী জায়গা দখল করে বস্তির মতো বসত ঘর তুলে এখানে মাদকের বিকিকিনি চলে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা জুয়ার মাঠ চালায় তারা কিভাবে মাদরাসা চালায় এটা আমার জানা নাই। তিনি আরো বলেন, ফুলবাড়ীগেটে স্বনামধন্য মাদরাসা বা লিল্লাহ বোর্ডিং এর অভাব নেই। নতুন করে এখানে এগুলোর দরকার নেই। এরা সম্পূর্ণ নিজেদের স্বার্থের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ