ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সয়দাবাদ-এনায়েতপুর বাইলেন সড়ক কাজে আসছে না

সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ-এনায়েতপুর রুটের কদমতলী নামক স্থানে বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ধসে যাওয়ার একটি দৃশ্য

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ-এনায়েতপুর সড়কের পপ্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তাটি এখন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের কাছে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে ছোট বড় খানাখন্দ। আর ধীরগতির যানবাহনের জন্য ৭ বছর আগে বাইলেনের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ হয়নি এখনো। একারণে চলাচলের অনুপোযোগী এই সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূঘর্টনা।
তবে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন চলতি মাসেই এটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর খুব দ্রুতই চলাচলে উপযোগী করার জন্য কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্থ করতেই এই সড়কের কাজের এতো ধীরগতি।
জানা যায়, তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ আর জনবহুল এনায়েতপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার পপ্রায় ১৩ লাখ মানুষের জেলা সদর ও রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এনায়েতপুর-সায়দাবাদ সড়ক। জনবহুল এই সড়কের খানাখন্দের দুর্ভোগ ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল থেকে মুক্তি দিতে ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল বাইলেনসহ পপ্রায় ২০ কিলোমিটারে রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর পাইলট প্রকল্পের আওতায় বাইলেনের কাজ শুরু করলেও ৭ বছর পার হতে চললেও সে কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়কের যে অংশটুকু নির্মাণ করা হয়েছে তার অধিকাংশ স্থান বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর সে কারণে  প্রতিনিয়ত ছোট বড় দূর্ঘনার শিকার হচ্ছেন চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীরা।
ঈদের আগেই নতুনভাবে রাস্তাটি নির্মাণ করার জানিয়ে এনায়েতপুর কেজি মোড়ের সিএনজি চালক আব্দুল্লাহ ও বেলকুচির মায়ের দোয়া বাসের চালক জয়েন উদ্দিন ও গাড়ির যাত্রী আশিকুর রহমান ও জেসমিন নাহার রত্না জানান, এনায়েতপুরপুর-সয়দাবাদ বাইলেন সড়ক নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় ও মুল সড়ক সংস্কার না করায় এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘনা, সময়ও বেশি লাগে, সুস্থ মানুষকে অসুস্থ হতে হয়। মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চরম দুর্ভোগ বেড়েছে।
এবিষয়ে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেন, সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে বিশেষ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ের বাইলেন রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছেনা। সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁতশিল্প প্রধান এই এলাকার অর্থনীতিকে সচল রাখতে উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তবে সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানান, আগামী চলতি মাসের পপ্রথম সপ্তাহেই এ সড়কের টেন্ডার আহব্বান করা হবে। তবে ঈদের আগে সাময়িক কাজ করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ