ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় পাট ক্ষেতে পোকার আক্রমণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয়

সাতক্ষীরায় ক্ষতির সম্মুখীন একটি পাটক্ষেত

আবু সাইদ বিশ্বাস, (সাতক্ষীরা): প্রচন্ড গরম ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে জেলার পাট হুমকীর মুখে পড়েছে। পানির অভাবে পাটক্ষেত ফেটে যাচ্ছে। ক্ষেতের বেশির ভাগ অংশে পাট মারা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেতে পাটের পাতা কুকড়িয়ে  যাচ্ছে। কৃষকরা চাতক পাখির মত বৃষ্টির জন্য আকাশ পানে চেয়ে আছে। আষাঢ়ে বৃষ্টি নামবে এমন আশায় পাটক্ষেত গুলির চারিপাশে আইল বেধেঁ পানি ধরে রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষীরা। 
নিম্নমানের ভেজাল বীজ, প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে সাতক্ষীরায় পাটের এমন অবস্থা বলে জানালেন পাট চাষীরা। পাট ক্ষেত পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ পাট ক্ষেত হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এতে কয়েকশ  কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে পাটচাষীরা।
জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৪ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলার চার হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ৫৪ হাজার ৬৩৩ বেল, কলারোয়া উপজেলার চার হাজার ০৫ হেক্টর জমিতে ৪৫ হাজার ৬৮ বেল, তালা উপজেলার তিন হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার ৯২৮ বেল, দেবহাটা উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ১৩ বেল, কালিগঞ্জ উপজেলার ১৭০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৯১৩ বেল, আশাশুনি উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ১৩ বেল ও শ্যামনগর উপজেলার পাঁচ হেক্টর জমিতে ৫৬ বেল পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 কয়েকজন পাটচাষীর সাথে কথা হয়। তারা জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেতে পাটের পাতা কুকড়ে যাচ্ছে এবং বিছা পোকায় পাতা খেয়ে ফেলছে। এতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় প্রত্যাশা পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে। সবুজের পরিবর্তে পাট ক্ষেতের রং হয়ে গেছে লালচে ও হলুদ বর্ণের। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন খোঁজ খবর রাখেন না বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ।
গতবছর পাটের দাম বেশী পাওয়ায় কৃৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তারা জানান, সার, বীজ ও কীটনাশকের সঙ্কট না হলে সাতক্ষীরাতে পটের উৎপাদন ভাল হবে।  
দেশি পাটের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য আবিষ্কার, পাটপণ্যের দ্বিগুণ রপ্তানি বৃদ্ধি পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলকসহ ব্যবহারে বহুমাত্রিকতা এলেও প্রতিবছর সারাদেশে কমছে পাট চাষ। কমছে চাষের জমিও। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজার মূল্যের অসমতার কারণে কৃষক নিরাশ। চাহিদা অনুযায়ী দাম না পেয়ে কৃষক বছরের পর বছর ঠকেই যাচ্ছেন। কিন্তু সাতক্ষীরাতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাস্তবে পাটের আবাদ না বাড়লেও খাতা কলমে বেড়েছে সাতক্ষীরাতে পাটের আবাদ।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরায় খুব ভাল মানের পাট উৎপাদন হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে, কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ