ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামিনে এসে মামলার সাক্ষীর ওপর আসামীদের হামলা

মামলার সাক্ষী রেজাউল করিম (৫০)

আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা: স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায় জামিনে এসে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক স্বামী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদের পূর্বের দিন রাতে (১৫ জুন) চকরিয়া উপজেলার মাঝের ফাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাক্ষী রেজাউল ইসলাম (৫০) বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন সহোদরের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, আলীকদম উপজেলার থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়। এ ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়কে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১০ এপ্রিল ১৪৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করেন । গত ২৫ মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) ১১(গ)/৩০ ধারায় চার্জশীট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আলীকদম থানার ওসি রফিক উল্লাহ্। এছাড়াও অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চকরিয়া কোর্টে সি.আর মামলা নং- ১৩০/২০১৮ রুজু হয়। এ মামলার সাক্ষী হচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার দক্ষিণ কাকারা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম।
অভিযোগে প্রকাশ, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল মামলার বাদী জয়নব আরা বেগম ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে বান্দরবান চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং- ৩৯/২০১৮ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে এ মামলার তদন্ত করেন আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইস্কান্দর নুরী। তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ এপ্রিল ১৩৯ নম্বর স্মারকে ‘সাক্ষ্য-প্রমাণে কথিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি’ মর্মে যায়নি মর্মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দখিল করেন।
মামলার বাদী নির্যাতিত জয়নব আরা বেগম বলেন, শিক্ষক শফিকুল এবং তার দুই সহোদর মনিরুল ও জহিরুলের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশীট, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক শফিকুলের দায়ের করা মামলা মিথ্যা মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর থেকে এ তিন সহোদর মারমুখী হয়ে পড়ে। শুরু করেন উন্মাদের মতো আচরণ। এরপর থেকে শফিকুল তার ফেসবুক আইডিতে অশ্লীল ও মানহানিকর ছবি এবং লিফলেট আপলোড করে চলেছে। এছাড়াও শফিকুল ও মনিরুল মিলে চকরিয়ার কাকারা গ্রামে এবং আলীকদম উপজেলার বাস স্টেশন, পানবাজার, চৌমুহুনী ও আলীকদম বাজার এলাকার বিভিন্ন ওয়ালে তার চরিত্রহনন করে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছে।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ১৫ জুন চকরিয়া উপজেলা মাঝেরফাড়ি বাজারে মামলার সাক্ষী রেজাউল করিমকে অতর্কিত আক্রমণ করে মামলার ১নম্বর আসামী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযুক্ত তিন সহোদর। এ সময় ছুরি দিয়ে রেজাউল করিমকে মারাত্মক জখম করে শফিকুল ইসলাম। তার অপর দুইভাই মনিরুল ও জহিরুলও ছুরি ও ইটের আঘাতে উপর্যুপরি জখম করেন রেজাউলকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের খুন-জখমের কবল থেকে রেজাউলকে উদ্ধার করেন ওয়ার্ড মেম্বার বাদশা মিয়াসহ স্থানীয়রা। ছুরি ও ইটের আঘাতে রেজাউলের ডান চোখ দৃষ্টি হারাতে চলেছেন বলে আশংকা করছেন ডাক্তার ও আহতের পরিবার-পরিজন। এ ঘটনার সময় রেজাউল করিম থেকে অভিযুক্ত শফিক, জহিরুল ও মনির জোর করে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক।
দুই সহোদর শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে-বাজারে মামলার ঘটনায় বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার শিকার শফিউল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, আমিও মামলা সাক্ষী। প্রথমে তিন সহোদর আমার ওপর হামলা করেন। এরপর আমার মামা ঘটনাস্থলে আসলে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
ঘটনার হোতা অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও ফেসবুকে ছবি ও লিফলেট আপলোডের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে চাকুরী থেকে সাময়িক সাসপে-ের আদেশ দিয়েছেন। আমি বর্তমানে ৫/৬ মামলার আসামী। তাই আমার মাথা ঠিক নেই।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাদশা মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে আমি শফিকসহ তিন ভাইকে হামলায় অংশ নিতে দেখেছি। এ ঘটনায় আহত রেজাউল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ