ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভালুকায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল চুরির অভিযোগ ॥ ৮০ মণ চাল উদ্ধার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ভালুকা উপজেলার ১ নং উথুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মোঃ বজলুর রহমান তালুকদার বাচ্চুর বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে সরকারের দেয়া ভিজিএফ এর চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের অভিযোগর ভিত্তিতে শনি ও রোববার দু’দিনে উপজেলার উথুরা বাজারের চাল ব্যবসায়ী হাফিজুল ও লোকমানের দোকান থেকে ৫৬ বস্তায় ৮০ মণ চাল উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ১ নং উথুরা ইউনিয়নের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ৪৭শত ২০জন কে ১০কেজি করে চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঈদের আগে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিন চাল বিরতরণ করা হয়। চাল বিতরণের সময় কোন মেম্বারকে জানানো হয়নি। চেয়ারম্যান তার অনুগত কয়েকজন কে নিয়ে এ চাল বিতরণ করেন।
শুক্রবার দিন অনেক কার্ডধারী চাল না পেয়ে চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার কাছে চাল পাওয়ার জন্য চালের কার্ড জমা দেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বঞ্চিতদের চাল দিতে না পরে ঈদের দিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামালকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থানা পুলিশ পাঠালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ উথুরা বাজারে হাফিজুল নামে এক চাল ব্যবসায়ীরে ঘরে ৫০ কেজির ২২ বস্তা চাল পায় এবং ঘরে নতুন তালা লাগিয়ে রাখে।
পরদিন রোববার স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বাজারের আরেক চাল ব্যবসায়ী লোকমানের চালের সেড  থেকে আরও ৫০ কেজির ৩৪ বস্তা চালের সন্ধান পুলিশকে জানালে তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত জনতা ও ইউপি মেম্বারদের বক্তব্য শুনে হাফিজুলের ঘরে জব্দকৃত ৫০ কেজির ২২ বস্তা চাল থানায় নিয়ে আসেন। দু’বারে মোট ৫৬ বস্তায় প্রায় ৮০ মণ চাল উদ্ধার করেন প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে দুই চাল ব্যবসায়ী পলাতক রয়েছেন । সরে জমিনে উপস্থিত জনতারা জানায়, প্রায় হাজার খানেক কার্ডের কোন হদিস নেই, তারা কোন চাল উত্তোলন করেননি। রবিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে ৬৫টি কার্ড তাঁদের কাছে আসে,সেই সব কার্ডের চাল উত্তোলন করা হয়নি। স্থানীয় হোসেন আলী পিতা সাহেব আলী আকন্দ বলেন,আমার নামে একটি ভিজিএফ এর কার্ড ছিলো সেই কার্ড নিয়ে গত শুক্রবার চেয়ারম্যানের কাছে চালের জন্য গেলে, চেয়ারম্যান জানান চাল দেয়া শেষ হয়ে গেছে পরিষদে আর চাল নেই। পরিষদের মেম্বার , রফিকুল ইসলাম, শাহজাহান, শহিদ ও মোশারফ হোসেন জানান, চাল বিতরণের সময় কোন মেম্বার কে রাখা হয়নি। চেয়াম্যানের কয়েকজন অনুগত লোকদিয়ে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ১০ কেজির স্থলে সাড়ে ৬ কেজি থেকে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল নেয়ার পর অনেকেই ওইে বাজারে চাল মেপে দেখেছেন। স্থানীয় নেতাদের ভয়ে  সুবিধা ভোগীরাও কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কারণ বিনা টাকায় যে টুকু চাল পাওয়া যায় সে টুকুই লাভ। তবে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোঃ বজলুর রহমান তালুকদার বাচ্চু চুরির অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, বিষয়টি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তার দাবী ৪ হাজার,৭’শত, ২০ কার্ড বরাদ্দ পাওয়া সব কার্ডের বিপরীতে সব চাল গেল শুক্রবার বিতরণ করে দিয়েছেন, তার পরিষদে ভিজিএফ কার্ডের কোন চাল বিতরণের বাকী নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং চাল উদ্ধারের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ