ঢাকা, সোমবার 25 June 2018, ১১ আষাঢ় ১৪২৫, ১০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দিন ধার্য হবে আজ

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দিন ধার্যের বিষয়ে আজ সোমবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।
গতকাল রোববার এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
খুরশীদ আলম আদালতকে বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিলসহ মোট তিনটি আপিল করা হয়েছে। এগুলোর শুনানির দিন ধার্য করতে আবেদন করছি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে।’
এ সময় আদালত বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু খালেদা জিয়ার আপিলটি (সাজার বিরুদ্ধে) শুনতে পারবো। কিন্তু দুদকের মামলার শুনানির এখতিয়ার না থাকায় (নতুন বেঞ্চ গঠন হওয়ায়) বাকি আসামীদের আপিল শুনতে পারবো না।
আদালত বলেন, খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির দিন ধার্যের জন্য আজ সোমবার আদেশের জন্য থাকবে।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদ-াদেশ দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে ওই দিন বিকালে (৮ ফেব্রুয়ারি) পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।
রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি (অনুলিপি) হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।
পরে ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।
খালেদা জিয়ার জামিননামা কারাগারে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিননামা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এ জামিননামায় সই করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখার পেশকার ওমর ফারুক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় জামিননামা কারাগারে পৌছঁলেও তিনি মুক্তি পাবেন না। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার দেখানো সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিননামা বিচারক সই করেছেন। আমরা জামিননামাটি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
জামিননামা কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমরা জামিননামা গত মাসে (মে) দাখিল করলেও দীর্ঘদিন পর আজ জামিননামা সই হয়েছে।
জামিননামাটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ যাচাইবাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
গত ১৬ মে ঢাকা মহানগর জুডিশিয়াল মুন্সিখানায় এ জামিননামা দাখিল করেন আইনজীবীরা। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের দ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার দায়ের করা হাইকোর্টের আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ