ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নাইজেরিয়ায় কৃষক ও পশুপালকদের সংঘাতে নিহত ৮৬

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিরম কৃষক জাতিগোষ্ঠী ও ফুলানি মেষপালক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।  বিরম কৃষক জাতিগোষ্ঠীর হামলায় উভয় জাতির পাঁচজন নিহতও হন।  এরপর শনিবার সংঘটিত জাতিগত প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।

রাজ্য পুলিশ কমিশনার আনদি আদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৮৬ জন নিহতের ঘটনায় গ্রামগুলোতে অভিযান চলছে।  তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে ৫০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  এছাড়াও ১৫টি মোটরসাইকেল ও দু'টি যানবাহনও পুড়ে গেছে।

এদিকে প্রদেশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রদেশের রিয়ম, বারিকিন লাদি ও জস সাউথ এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই তিন এলাকায় কারফিউ বলবৎ থাকবে।

বিবিসি লিখেছে, নাইজেরিয়ার ওই অঞ্চলে জমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সহিংসতা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের রূপ পেয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে কেবল ২০১৭ সালেই সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। 

আধা যাযাবর পশুপালক গোষ্ঠী ফুলানিরা মূলত মুসলমান। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে বসতি গড়া বেরোম কৃষকরা মূলত খৃস্টান ধর্মাবলম্বী।

ভূমির অধিকার ও পশু চরানো নিয়ে এ দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কেন সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সহিংসতার দিকে মোড় নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।  

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য লিবিয়া থেকে অবৈধ অস্ত্র আসার বিষয়টিকে দায়ী করে আসছেন। আবার অনেকে বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের সামলাতে ব্যস্ত থাকায় গোষ্ঠী সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

রাজ্যের গভর্নর সিমন লালং বলেছেন, ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংঘাতের পেছনে কারা উসকানি দিচ্ছে, তাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ