ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এরদোগানের নির্বাচনী সাফল্য ব্যাপক কাভারেজ ব্রিটিশ গণমাধ্যমে

তুরস্কের প্রেস এন্ড ইনফরমেশনের মহাপরিচালক এবং আনাদুলো এজেন্সি কর্তৃক স্থাপিত প্রেস সেন্টারে সাড়ে ৬শ’ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মী গত রোববারের নির্বাচনের ফলাফল কভার করেন -আনাদুলো এজেন্সি

২৫ জুন, আনাদুলো এজেন্সি : তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান এবং তার জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নির্বাচনী সাফল্য ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে কাভারেজ পেয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ, দ্য স্কাই নিউজ এবং দ্য গার্ডিযানে তুর্কী প্রেসিডেন্সিয়াল ও পার্লামেন্টারি নির্বাচনের বেসরকারি ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

বিবিসির খবরে এরদোগানকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘তুরস্কের ক্ষমতায় দীর্ঘদিন ধরে অধিষ্ঠিত নেতা রজব  তৈয়ব এরদোগান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে প্রথম রাউন্ডে সরাসরি জয়লাভ করেছেন।’

এতে আরো বলা হয়, প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে এরদোগান ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ¦ী মুহাররেম ইনস পেয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোট।

দ্য গার্ডিযানের খবর বলা হয়, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে রজব  তৈয়ব এরদোগান জয়লাভ করেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সব ভোট গণনা না হওয়ায় বিরোধীরা পরাজয় স্বীকার করেননি।’

স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়, আনঅফিসিয়াল ফলাফল অনুযাযী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসাবে এরদোগান পুনরায় ফিরছেন বলে  জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, ‘কিন্তু প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই দ্বিতীয় দফা নির্বাচন এড়ানোর জন্য এরদোগান এখনো প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ পাননি।’

এর আগে রবিবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচনে তার সাফল্য ঘোষণা করেন। রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৯৭৭ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষে এরদোগান ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়। কোনও প্রার্থী যদি প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পান, তবে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয়।

সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফা নির্বাচনের পনের দিন পর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। যদিও ইতোমধ্যেই পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গেছেন এরদোগান। তাই দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনও প্রয়োজন হবে না।

গত বছর অনুষ্ঠিত গণভোটে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় আসার পর রবিবার প্রথমবারের মতো একযোগে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় তুর্কী জনগণ।

ওই গণভোটে দেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থায় পরিণত করার পক্ষে রায় এসেছিল। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরদোগান উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা পাবেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করতে পারবেন তিনি। নির্বাহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টের মনিটরিং করার ভূমিকাও বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে এরদোগানের হাতে।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কীরা। এদিকে প্রায় ৬৫০ জন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মী রোববারের তুর্কী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল কভার করেছেন।

রাজধানী আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দিযারবাকিরে স্থাপিত প্রেস সেন্টারে এসব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীরা একত্রিত হয়ে সংবাদ কভার করেন।

তুরস্কের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশনের মহাপরিচালক এবং আনাদোলু এজেন্সি কর্তৃক এসব প্রেস সেন্টার স্থাপন করা হয়।

তুর্কী প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনী ফলাফল কভার করার জন্য ৩৪টি দেশের প্রায ৬৫০ জন বিদেশী সাংবাদিক এসব সেন্টারে জড়ো হন।

এরমধ্যে ফ্রান্সের ৪৩ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৬ জন, জার্মানির ২৩ জন, স্পেনের ১২ জন, গ্রিসের ১০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের ৯ জন করে সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

মূলত মুসলিম বিশ্বসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তুরস্ক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। এ কারণে দেশটির নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের নজর ছিল।

রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ¦ী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র প্রার্থী মুহাররেম ইনস এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট। এখন পর্যন্ত মোট ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে।

এদিন একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এরদোগানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স।

৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে এরদোগানের জোট। সিএইচপি’র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট।

৬০০ আসনের পার্লামেন্টে এরদোগানের দল একে পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৯৩ জন এমপি। জোট শরিক এমএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৫০ জন। সিএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪৬ জন এমপি। তাদের জোট শরিক ইয়ি পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৪ জন।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ