ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাইজেরিয়ায় কৃষক ও পশুপালকদের সংঘাতে নিহত ৮৬

২৫ জুন, বিবিসি : নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে,  স্থানীয় বেরোম গোষ্ঠীর কৃষকরা পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে। এর বদলা নিতে শনিবার পাল্টা হামলা হলে আরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

প্লাটো রাজ্যের পুলিশ কমিশনার উনদি আদি জানান, সহিংসতার পর গ্রামে গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে ৮৬ জন নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন তারা। এই সংঘাতের মধ্যে অন্তত ৫০টি বাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল ও দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্লাটো রাজ্যের তিন জায়গায় কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রিয়ম, বারিকিন লাদি ও জস সাউথ এলাকায় এই কারফিউ বলবৎ থাকবে।

নাইজেরিয়ার ওই অঞ্চলে জমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সহিংসতা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের রূপ পেয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে কেবল ২০১৭ সালেই সহ¯্রাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। আধা যাযাবর পশুপালক গোষ্ঠী ফুলানিরা মূলত মুসলমান। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে বসতি গড়া বেরোম কৃষকরা মূলত খৃস্টান ধর্মাবলম্বী।

ভূমির অধিকার ও পশু চরানো নিয়ে এ দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কেন সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সহিংসতার দিকে মোড় নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য লিবিয়া থেকে অবৈধ অস্ত্র আসার বিষয়টিকে দায়ী করে আসছেন। আবার অনেকে বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের সামলাতে ব্যস্ত থাকায় গোষ্ঠী সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজ্যের গভর্নর সিমন লালং বলেছেন, ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংঘাতের পেছনে কারা উসকানি দিচ্ছে, তাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ