ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোরীয় যুদ্ধের ৬৮ বছর পরও স্বজনদের লাশের অপেক্ষায় শতাধিক মার্কিন পরিবার

২৫ জুন, সিএনএন : আজ থেকে ঠিক ৬৮ বছর আগে, ১৯৫০ সালের ২৫ জুন শুরু হয়েছিল কোরীয় যুদ্ধ। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে উত্তর কোরীয় ট্যাংক ও সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে। ওই যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সত্তর বছর আগের ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় নিহত হন কয়েক হাজার মার্কিন সেনা। দীর্ঘ প্রায় সাত দশক ধরে সেনাদের পরিবার ও মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগের পরও তাদের লাশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

 কোরীয় যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনা কার্লে সেইডেলের মেয়ে রুথ হাবার্ট। প্রশান্ত সাগরের এক সৈকতে দাঁড়িয়ে দিগন্তের থাকিয়ে মনে মনে ভাবেন, ওপারে কোথাও রয়েছেন তার বাবা। ছোটবেলায় রুথ কোরিয়া শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন যখন তিনি এই শব্দটির অর্থও বুঝতে পারতেন না। সিএনএনকে তিনি বলেন, কথা বলতে শেখার আগেই শব্দটি শুনতে পাই। আমাদের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছিল শব্দটি। রুথের বাবা কার্লে ২৪ বছরে স্ত্রী, মেয়ে ও এক মাস বয়সের ছেলেকে সিয়াটলে রেখে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিল আরও প্রায় লাখ খানেক মার্কিন সেনা। কিন্তু যুদ্ধে নিহত হন কয়েক হাজার সেনা। তাদের অনেকেরই দেহাবশেষ রয়ে গেছে উত্তর কোরিয়ায়। ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে উভয় পক্ষের প্রায় ১২ লাখ সেনা নিহত হন। একই সময়ে নিহত প্রায় ১৬ লাখ বেসামরিক মানুষ। উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্মম বোমা হামলায় বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পুরো উত্তর কোরিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।সিঙ্গাপুরে ১২ জুন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনার দেহাবশেষ ফেরত আনা হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এই ঘোষণায় ৬৮ বছর আগে স্বজন হারানো কিছু পরিবারে স্বস্তি আনলেও উত্তর কোরিয়ায় থাকা নিহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। যদিও কোরীয় যুদ্ধে নিহত সেনাদের সন্তানের বয়স ৬০ বছর হয়ে গেছে।যুদ্ধের পর বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উত্তর কোরিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হাজার হাজার মার্কিন সেনার দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে কোরীয় যুদ্ধের সময়কার ৭ হাজার ৬৯৭ জন সেনার এখনও কোনও খোঁজ নেই। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৩০০ জনের লাশ উত্তর কোরিয়ায় রয়েছে বলে মনে করা হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে সংরক্ষিত বেসামরিক অঞ্চল দিয়ে ৩৪০ জন সেনার লাশ পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া আরও প্রায় ২০০ দেহাবশেষ উত্তর কোরিয়া শনাক্ত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব লাশ মার্কিন সেনাদের। আগামী দিনগুলোতে এই লাশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হস্তান্তর করা হবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। লাশ হস্তান্তরের কোনও চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের এক মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বেসামরিক যুদ্ধবিরতি অঞ্চল দিয়ে হস্তান্তর করা হতে পারে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ