ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দায়িত্ব বুঝে নিলেন নয়া সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। গতকাল সোমবার সেনা সদর দপ্তরে সেনাপ্রধানের কক্ষে বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তার উত্তরসূরি কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দুপুরে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে জেনারেলের চার তারকা খোদিত দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় মাঝারি আকারের ছিমছাম কক্ষের এক দিকে সেনাপ্রধানের চেয়ারে বসে আছেন আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। তার ঠিক বিপরীত দিকের চেয়ারে বসা নতুন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ। দুজনের সামনেই সবুজ রংয়ের ফাইল। বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই ফাইলে সই করে বিনিময় করলেন বিদায়ী ও নতুন সেনাপ্রধান। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে হাত মেলালেন দুজন; সারা হল দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা।
 নেতৃত্বের ভার উত্তরসূরির হাতে তুলে দিয়ে চেয়ার থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাকে সেনাপ্রধানের চেয়ারে বসার আমন্ত্রণ জানালেন জেনারেল বেলাল। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ সেই চেয়ারে বসতেই করতালি দিয়ে অভিবাদন জানালেন কক্ষে উপস্থিত সবাই। বিদায়ী ও নতুন সেনাপ্রধান এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের ফাইল বিনিময় করেন। প্রথা অনুযায়ী নতুন সেনা প্রধান উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। এই পর্ব শেষে বিদায়ী সেনাপ্রধান তার শেষ কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে এলে সহকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান। লাল গালিচায় হেঁটে গিয়ে ফুলে সাজানো একটি খোলা জিপে ওঠেন আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। তার আগে আজিজ আহমেদের সঙ্গে কোলাকুলি করে বিদায় নেন। জেনারেল বেলালের এই বিদায়ের ক্ষণে সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে তখন পিনপতন নীরবতা। তিনি গাড়িতে উঠার পরপরই বিউগলে বেজে ওঠে রবি ঠাকুরের গানের সুর- ‘পুরানো সেই দিনের কথা’। রেওয়াজ অনুযায়ী সহকর্মীরা মখমল মোড়া দড়ি বেঁধে জিপটি টেনে নিয়ে যান বিদায়ী সেনাপ্রধানের বাসা পর্যন্ত। জেনারেল বেলাল তখন খোলা জিপে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বাহিনীর সব পর্যায়ের সহকর্মীদের বিদায় জানাচ্ছিলেন। দুপুরের আগে থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। জেনারেল বেলাল তার বাসায় পৌঁছানোর পরপরই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি।
দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বিদায়ী সেনাপ্রধান শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। জেনারেল বেলাল সেনাপ্রধানের কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার পর অফিসে প্রবেশ করেন নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ তার কক্ষে প্রবেশ করেন।
আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সেনাপ্রধানকে জেনারেলের র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেবেন। পরে রেওয়াজ অনুযায়ী তিনি শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং সেনাকুঞ্জে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশন পাওয়া আজিজ আহমেদ তার দীর্ঘ চাকরি জীবনে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক, জেনারেল অফিসার কামন্ডিং আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন অবজারভার হিসেবে ইরাক, কুয়েত ও সুদানে ফোর্স কমান্ডারের মিলিটারি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিজিবির পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পেয়েছেন বিজিবিএম ও পিজিবিএম পদক।
১৯৬১ সালের ১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা আজিজ আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরে। তার বাবা আব্দুল ওয়াদুদ বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের কর্মকর্তা ছিলেন। আজিজ আহমেদ ব্যক্তিগত জীবনে তিন ছেলের বাবা। তার দ্বিতীয় ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৬তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে প্রশিক্ষণরত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ