ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তালিকায় কারও নাম থাকতেই পারে, কিন্তু প্রমাণ না পেলে ব্যবস্থা নিতে পারব না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘তালিকায় কারও নাম থাকতেই পারে, কিন্তু প্রমাণ না পেলে ব্যবস্থা নিতে পারব না। তালিকায় থাকা ব্যক্তি যদি সাংসদ বা কোনো নেতা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৭ সালের ৪২তম অধিবেশনে পৃথিবীকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে সফল বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ‘অভিযান যথেষ্ট পরিমাণে সাড়া জাগিয়েছে। এতে মানুষের সমর্থন রয়েছে।’ মাদকবিরোধী অভিযান চলছে ও চলবে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ২২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগারে যে আসামী আছে, তার ৪৩ শতাংশই মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংসদ ও প্রভাবশালী কাউকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সাংবাদিকেরা এ তথ্য জানতে চান। মন্ত্রী এর জবাবে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তালিকা আছে এবং যার বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে, তাদের আমরা গ্রেপ্তার করছি বা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
একরাম হত্যার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব তদন্ত করছে। আমরা শিগগিরই আপনাদের এ বিষয়ে জানাব।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘মাদক অপরাধীদের বিচার দ্রুত ও তাৎক্ষণিক করার জন্য সরকার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের জন্য সার্বক্ষণিক দুজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
মিয়ানমার কথা রাখেনি
ইয়াবা ব্যবসা বন্ধের বিষয়ে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রক্ষা করেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি, সরবরাহ ও এর ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশকে দেওয়া কথা রাখেনি মিয়ানমার।’ ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াবা বানায় মিয়ানমার। বাংলাদেশ বা ভারত কোথাও ইয়াবা তৈরি হয় না। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত শুধু টেকনাফ বা নাফ নদীই নয়। এর বাইরেও অনেক সীমান্ত দিয়ে নানাভাবে পাচার হয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। মিয়ানমারের ইয়াবা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়েও বাংলাদেশে আসছে, সমুদ্রসীমা দিয়েও আসছে।’ তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সীমান্তে ইয়াবার কারখানা রয়েছে। এই ইয়াবা পাচার বন্ধে আমি নিজে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সে দেশের প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক চুক্তিও করেছি। কিন্তু কোনও কথাই রাখেনি মিয়ানমার। তারা মুখে বলছে কাজ করবে, কিন্তু কোনও কাজই করেনি। ভারত কিন্তু বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে অনেক সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করেছে। এগুলো তো দৃষ্টান্ত।’
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ইয়াবা বহনকারী শনাক্তে বান্দরবান ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) সংখ্যা বাড়িয়েছি। এছাড়া পুটখালীতে পরীক্ষামূলক ডিভাইস বসিয়েছি। সেই ডিভাইস ভালো কাজ করছে। যেসব সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসছে, সেখানে এই ডিভাইস বসাবো। ইতোমধ্যে নাফ নদীতে কোস্টগার্ডের টহল বাড়িয়েছি। এই মাদক সরবরাহ বন্ধে আমরা নোডাল এজেন্সিকে শক্তিশালী করছি। বিজিবিকে শক্তিশালী করছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণ করবো।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ