ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুরস্কে গণতন্ত্র সংহত হচ্ছে

গত ২৪ মে’র নির্বাচনের মাধ্যমে তুরস্কে গণতন্ত্রের আরেক দফা বিজয় হলো। নির্বাচনে একই সাথে প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্ট সদস্যদের নতুন মেয়াদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনেই কে জিতবে কে হারবে তার অনিশ্চিয়তা থাকে। তুরস্কেও ছিল। ১৫ বছর ধরে দেশ শাসনকারী রজব তাইয়েব এরদোগান এবং তার একে পার্টির বিরুদ্ধে বিরোধী দলীয় মহা-তোড়জোড়ের সাথে একাট্টা হয়েছিল। তাদের সাথে ছিল যারা ইসলামের উত্থান পছন্দ করে না তাদের সাহায্যও। পশ্চিমী মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্রকার সাহায্য সমর্থনে পুষ্ট বিরোধী দল এমন একটা জোয়ার সৃষ্টি করতে চেয়েছিল যাতে তারা আশা করছিল এরদোগান এবং তার দলকে তারা ভাসিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি। এরদোগান প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ও নির্বাচিত হয়েছেন। তার দল একে পার্টি ও মিত্র দল এমএইচপি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এরদোগানের দল পেয়েছে ২৯৫টি আসন, মিত্র দল এমএইচপি আসন পেয়েছে ৪৯টি। বিরোধী দল সবাই মিলে পেয়েছে ২৫৬টি আসন। অন্যদিকে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫২.৬% ভোট পেয়ে এরদোগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩০.৬%। নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান নির্বাচনের ফলাফলকে তুরস্কে গণতন্ত্রের বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। আমরা তুরস্কে গণতন্ত্রের বিজয়কে অভিনন্দিত করছি।
রজব তাইয়েব এরদোগান তুরস্কে গণতন্ত্রের সংকটই শুধু দূর করেননি বহু বছরের অর্গলবদ্ধ গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করেছেন। ২০০৩ সালের পর এরদোগান ও তার দল ক্ষমতায় আশার আগে দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের অব্যাহত সংকট চলে। তারও আগে তুর্কী জনগণের মাথায় আবাঞ্ছিত মতোবাদ চাপিয়ে দিতে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। পরবর্তীকালে অবাঞ্ছিত সে মতবাদ রক্ষার নামে সেনাবাহিনী বারবার গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করে। অবস্থা এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যে তুর্কী ভাষার বদলে আরবী ভাষায় আজান চালু করার অপরাধে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্দারেসকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়। ইসলামের পক্ষে কথা বলা ছিল অপরাধ। এই অপরাধে এমন কি সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। ইসলামী রাজনীতির গুরু নাজমুদ্দীন আরবাকান, এমন কি রজব তাইয়েব এরদোগানকে ইসলামী বিশ্বাস প্রকাশের অপরাধে জেলে পুরা হয় এবং তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এই অবস্থাতেই  ধৈর্যের সাথে অগ্রসর হয়ে এরদোগান এবং তার দল তুরস্কের গণতন্ত্রকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছেন। অনেকে বলেন, এরদোগান ক্ষমতায় এসে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছেন। আসলে ঘটনা তা নয় এরদোগান যেটা করছেন সেটা হলো তুর্কী জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আইন করে হিজাব পরিধানকে বহু বছর নিষিদ্ধ রাখা হয়েছিল। এইভাবে ইসলামী বিশ্বাস ও অনুশাসনগুলোর ওপরে আইনি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রাখা হয়। এরদোগান এবং তার সরকার মাত্র এই নিষেধাগুলো তুলে দিয়ে মানুষকে তাদের স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটাই গণতন্ত্রের দাবি। এরদোগান তুরস্কে এই গণতন্ত্রের রূপকার।
গত ২৪ মে তুরস্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে। যে নির্বাচনটি এরদোগান এবং তার সরকারের ভবিষ্যতের রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য গুরত্বপূর্ণ ছিল, যে নির্বাচনে হেরে গেলে তাদের সরকারই শুধু পতন ঘটতো না তুরস্কের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার এরদোগানের ভিষনও শেষ হয়ে যেত, যে নির্বাচনে মিডিয়ার তথ্যউপাত্য অনুসারে এরদোগান ও তার দলের জন্যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সে ধরনের একটি নির্বাচনও সকল কারচুপিমুক্ত সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলো। রেজাল্টে দেখা যাচ্ছে বিরোধী দল যা আশা করেছিল তার চেয়েও ভাল রেজাল্ট করেছে। অন্যদিকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে এরদোগানের একে পার্টি গত নির্বাচনের চেয়ে কম আসন পেয়েছে। এটা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ারই প্রমাণ। নির্বাচনকালীন সময়ে উল্লেখ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কুর্দী এলাকার মাত্র একটি স্থানে কিছু ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিকারে এগিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আমরা মনে করি তুরস্কের এই নির্বাচন একদিকে যেমন তুরস্কের গণতন্ত্রকে সংহত করেছে, অন্যদিকে তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুন এক যুগে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। আমরা গণতন্ত্রমনা তুরস্কের জনগণ এবং তাদের নেতাদের আমরা অভিন্দন জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ