ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুমুল বৃষ্টি মাথায় নিয়েও আমরণ অনশনে শিক্ষকরা

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এমপিওভুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেন তারা। দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও তারা প্রেসক্লাবের সামনের খোলা আকাশের নীচে রাস্তা থেকে সরেননি। পলিথিন মাথায় নিয়ে রাস্তায় বসে থাকেন। কেউ কেউ ছাতা নিয়ে দাড়িয়ে থাকেন। এদিকে দাবি আদায় করেই রাজপথ ছাড়ার শপথ পাঠ করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম ২৪ জুনের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে ২৫ জুন থেকে আমরা আমরণ অনশনে বসবো। পূর্বঘোষিত সেই ঘোষণা অনুযায়ী আমরা অনশনে বসেছি। যত ঝড়-তুফান আসুক না কেন আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।
এদিকে বৃষ্টিতে কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গতকাল দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা খোলা আকাশের নিচে অনশন করছেন। তাঁরা বলছেন, এবার দাবি পূরণ ছাড়া তাঁরা বাড়ি যাবেন না।
অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৫ থেকে ২০ বছর যাবত ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে শিক্ষক-কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫-১০ বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সারা দেশে উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, গত ১২ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চলতি ২০১৮-১৯ বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দের কোন সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। যার ফলে নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীর অত্যন্ত হতাশ ও আশাহত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সারা দেশের নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তি হলে সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে রাষ্ট্রপতির অবদান চিরদিন স্মরণ করবে।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, এবার স্বীকৃতি পাওয়া সব কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন। সংগঠনটির এক নেতা জানিয়েছেন, সকালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত ও শপথবাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। শপথবাক্য পাঠ করান ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী। শপথবাক্যে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।
এর আগে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে টানা ওই অবস্থান ও অনশনের একপর্যায়ে গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার তৎকালীন একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হয়েছে আসন্ন অর্থ বছরে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেন, সেখানে নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ