ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে ৪ জন নিহত আহত ১০

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরায় পৃথকস্থানে বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন দশজন। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারি, ভোমরা এবং শ্যামনগর উপজেলার গুমনতলী গ্রামে এ ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা সদরের বৈকারি গ্রামের আব্দুস সালামে ছেলে সাজু হোসেন (২৫), শ্যামনগরের গুমনতলী গ্রামের শিকান্ত দাশের স্ত্রী জোৎসা মন্ডল (৩৫) , মুজিদ মোল্লার স্ত্রী জিন্নাহতুননেছ (৩২) এবং সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা তেঘরিয়া গ্রামের আবুল খায়ের। 
এসব ঘটনায় মোট ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ঘের কর্মচারী গুমানতলী গ্রামের মমিন সরদারের পুত্র আনিসুর সরদারের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছে কর্তব্যরত ডাক্তার।
শ্যামনগরে আহতদের উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদওয়াান রাইসুল সাংবাদিকদের কোন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকাল থেকে গুমানতলীর একটি ঘেরে শিকান্ত দাশের স্ত্রী জোৎসা মন্ডল (৩৫)  ও মুজিদ মোল্লার স্ত্রী জিন্নাহতুননেছ (৩২) কাজ করছিল তারা। এক পর্যায়ে বজ্র্রসহ বৃষ্টিপাত বাড়লে তারা ঘেরের ভেড়ির উপর দিয়ে বাড়িতে চলে আসছিল।  এসময় হঠাৎ বজ্র্রপাতে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সদরে বজ্রপাতে সাজু হোসেন (২৫) নামে এক মৎস্য ঘের মালিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। সোমবার দুপুরে সদরের বৈকারী ইউনিয়নের বৈকারি বিলে এ ঘটনটি ঘটে। নিহত সাজু হোসেন বৈকারি ইউনিয়নের আব্দুস সালামের ছেলে। আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
  বৈকারি ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান অসলে জানান, তিন চারজন কর্মচারি নিয়ে সাজু তার নিজস্ব মৎস্য ঘেরে কাজ করছিল। এসময় বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে সে তার কর্মচারিদের নিয়ে বাড়ি আসছিলেন। পথিমধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে সাজু হোসেন ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন দুইজন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বজ্র্রপাতে ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড
৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছে সাতক্ষীরার একটি আদালত। একই মামলায় ওই আসামীকে অপহরণের দায়ে তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামী পলাতক রয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নাম রানা সরদার (৩৫)। সে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বিলগঞ্জ গ্রামের পাঁচু সরদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৮ জুলাই সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে বাদির বোন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ে খোরদো ব্রাক স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়। দুপুর একটা বেজে গেলে সে বাড়ি না আসায় বাদি ও তার স্বজনরা খুঁজতে যেয়ে জানতে পারেন যে তার এক সহপাঠী খোরদো গ্রামের এক মেয়েকে একটি মোটর সাইকেলে করে নিয়ে গেছে এক ব্যক্তি।
পরদিন সকাল ৯টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চাকলা খেয়াঘাটে কপোতাক্ষ নদ পার হওয়ার সময় স্থানীয় জনতা দুই স্কুলছাত্রীসহ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রানা সরদারকে আটক করে। পরে রানাকে গণধালাই দেওয়া হয়। এ সময় দুই স্কুলছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ২০০৫ সালের ৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদেরকে ভারতে ভাল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে খোরদো বাজার থেকে মোটর সাইকেলে তুলে চাকলা খেয়াঘাট পার হয়ে যশোরের চাঁচড়ায় নিয়ে যায় রানা। পরে তাদেরকে মনিহার সিনেমা হলে সিনেমা দেখানোর পর রাতে একটি আবাসিক হোটেলে তোলা হয়। হোটেলে বাদির বোনকে স্ত্রী ও তার সহপাঠীকে শালিকা পরিচয় দিয়ে একই কক্ষে রাত্রিযাপন করে রানা সরদার। সহপাঠীকে চুলকানির ঔষধের নামে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বাদির বোনকে গভীর রাতে ধর্ষণ করে রানা। পরদিন তাদেরকে চাকলা খেয়াঘাট হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় ওই সালের ৯ জুলাই পাকুড়িয়া গ্রামের ওই ধর্ষিতার ভাই বাদি হয়ে রানা সরদারের নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় মানব পাচার এর ৫(১) ধারা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী ১০ জুলাই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইব্রাহীম খলিলের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক সামছুল হুদা ২০০৫ সালের ২৫ আগষ্ট আদালতে এজাহারভুক্ত আসামীর নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী রানা সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দু’ শিশুকে অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭(১) ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। একইসাথে ধর্ষণের অভিযোগে ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড দেন। দু’টি কারাদন্ড একইসাথে চলবে বলে আদেশে বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাড. এসএম জহুরুল হায়দার বাবু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ