ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন ফের ২৬ জুলাই ধার্য

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল সোমবার আদালতে জমা দেয়ার দিন থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য করেছেন বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারি ও কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই রাতে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের বোমায় নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন খান। আহত হন র‌্যাব-১-এর তৎকালীন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ, পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসানসহ পুলিশের ৩১ সদস্য। শ্বাসরুদ্ধকর এ হামলা ও জিম্মি পরিস্থিতির অবসান হয় পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে। অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ছাড়াও নিহত হন ওই রেস্তোরাঁর পাচক সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। পরে সেখান থেকে ১৮ বিদেশী নাগরিকসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যাঁদের নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ মামলায় গত ২২ মার্চ গুলশানের হোলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম সমন্বয়ক ও অস্ত্রের জোগানদাতা হাদিসুর রহমান ওরফে সাগরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।
আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে, আসামী সাগর হোলি আর্টিজান হামলার অন্যতম অস্ত্রের জোগানদাতা ও সমন্বয়ক।
আদালত ও পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেলেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবে তদন্তকারী সংস্থা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হাসনাত করিমকে এ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বলছে, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এই ঘটনার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র-বোমা সংগ্রহ, সমন্বয়, আক্রমণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত হিসেবে নব্য জেএমবির ২১ জনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেভাবে অভিযোগপত্র প্রস্তুুত করা হয়েছে। হাসনাত করিমকে অভিযোগপত্রভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলে এই সংখ্যা হবে ২২। জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন। নিহত এসব জঙ্গির অপরাধের বিবরণ অভিযোগপত্রে উল্লেখ থাকবে। হাদিসুর রহমান সাগর ও হাসনাত করিম ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন আরও পাঁচজন। তারা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহ, রকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।
পুলিশ বলছে, এই পাঁচজনই নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সদস্য। এঁদের মধ্যে রাজীব গান্ধী, রকিবুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ