ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত এক বছরে খুলনায় ৬৭ ধর্ষণ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর আট থানা ও জেলার নয় থানায় এক বছরে ৬৭ নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সব চেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মহানগরী এলাকায়। ধর্ষণের ঘটনায় দাকোপ উপজেলায় কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সিংহভাগ মামলার চার্জশিট এখনও হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ১৮ বছরে ধর্ষণের ৬শ’ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, নারী ধর্ষণের পাশাপাশি নারী ও শিশু পাচার এবং নির্যাতনের পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৭ সালের মে মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী এলাকার চারটি, জুন মাসে জেলায় তিনটি, মহানগরী এলাকায় একটি, জুলাই মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী এলাকায় পাঁচটি, আগস্ট মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী পর্যায়ে চারটি, সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা পর্যায়ে তিনটি, মহানগরী এলাকায় তিনটি, অক্টোবর মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী এলাকায় দুইটি, নবেম্বর মাসে উপজেলা পর্যায়ে তিনটি, মহানগরী এলাকায় একটি, ডিসেম্বর মাসে উপজেলা পর্যায়ে তিনটি, মহানগরী এলাকায় তিনটি, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে উপজেলা পর্যায়ে চারটি, মহানগরী এলাকায় একটি, ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী এলাকায় পাঁচটি, মার্চ মাসে উপজেলা পর্যায়ে তিনটি, মহানগরী এলাকায় দুইটি, এপ্রিল মাসে উপজেলা পর্যায়ে দুইটি, মহানগরী পর্যায়ে চারটি এবং মে মাসে মহানগরী এলাকায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গেল মাসে উপজেলা পর্যায়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
গত বছরের চার নবেম্বর দাকোপ উপজেলার বাজুয়া খুটাখালি বাজার এলাকায় ধর্ষণের ঘটনায় কলেজছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় দুইজন ছাত্রলীগ কর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, পুলিশ ভিকটিমকে আনার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সিংহভাগ অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনাস্থ সমন্বয়কারী এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, হীনমানসিকতার কারণে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে। ধর্ষণের মামলাগুলো ধীরগতিতে চলছে। অপরাধীরা দ্রুত সাজা না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৬শ’ ধর্ষণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলা দায়ের হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণিত হওয়ার পর চার্জশিট দেয়া হয়। ধর্ষণের মামলায় আপোসের কোন সুযোগ নেই।
রায়েরমহলে স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে ধর্ষণ : রায়েরমহল এলাকার একটি ঘেরে স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক মইন সরকার (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা রায়েরমহল এলাকার একটি ঘের ১০-১২ বছর ধরে দেখাশোনা করে। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার দুপুরে ওই মহিলা ঘেরে কাজ করার সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মইন সরকার ওই ঘেরেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর দুপুরেই মইনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষক মইন রায়েরমহল বাজারের উত্তর পাশে ঘাটবাড়ির বাসিন্দা মৃত সুবল সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় আড়ংঘাটা থানায় নারী নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ