ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ব্যাহত

৫০ শয্যা বিশিষ্ট ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এ,বি মোহাম্মদ আলী খান, ইটনা (কিশোরগঞ্জ): ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইটনা উপজেলা  স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় ডাক্তার,নার্স,ইপিআই কাজের স্বাস্থ্য পরিদর্শক, টেকনোলজিষ্ট ও  অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা সহ অত্র কমপ্লেক্সের আওতায় ১৮ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৭ জন, তাও ৩ জন কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডিপোটেশনে আছেন। নার্সিং সুপারভাইজার সহ ১৪ জন স্টাফ নার্স থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৬ জন, তাও ২ জন কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও নরসিংদী হাসপাতালে ডিপোটেশনে আছেন । মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট পদে ২ জনের স্থলে আছে ১ জন। প্যাথোলজিক্যাল টেষ্ট করার ব্যবস্থা থাকলেও  লোক না থাকায় প্রয়োজনীয় টেষ্টের অভাবে জটিল রোগ চিহ্নিত করা যাচ্ছেনা । ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ৩০০ এমএম এর একটি এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল এবং কিছু দিন কাজ ও চলছিলো বর্তমানে এটি রেডিও গ্রাফারের অভাবে বিকল । আওয়ামিলীগ সরকারের আমলের এক্সরে মেশিন টি সচল থাকলেও রেডিও গ্রাফারের অভাবে এটিও বিকল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা , ফলে সাধারণ রোগীদের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। অত্র ৩১ বেডের কমপ্লেক্সটি ৫০ বেডে উন্নীত করা  হয়েছে। পরিদর্শন কালে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক নয়। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ বেশীরভাগ ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ হাওরাঞ্চলের ১০ টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ টি সি. এম্বুলেন্স দিয়েছিল । এর মধ্যে এ. কমপ্লেক্সও একটি সি. এম্বুলেন্স প্রাপ্ত হয় কিন্তু এম্বুলেন্সটি খুবই নিম্ন মানের হওয়ায় এটি লাকড়িতে পরিণত হয়েছে । ইপিআই কাজের জন্য ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩৪ জন । স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২ জনের স্থলে ১ জন ও নেই। সহকারী স্বাস্থ্য পরিসর্শক ৯ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৩ জন। তাও বিদেশী । স্থানীয় কোন স্বাস্থ্য পরিদর্শক নেই । এ জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঠে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে । ইপিআই কাজের ঔষধ সরবরাহের জন্য সার্বক্ষণিক ৪ জনের স্থলে ২ জন পুটার রয়েছে । এ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুটারদের জন্য কয়েকটি নৌযান ও কয়েকটি বাই সাইকেলের দরকার । অত্র কমপ্লেক্সে ১ টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে কিন্তু শৈল্য চিকিৎসক না থাকায় কোন অপারেশন হয়না । এলাকাবাসীর দাবী,অত্র কমপ্লেক্সে একটি সিজারের ব্যবস্থা করলে ডেলিভারীর সময় মা ও শিশু সিজারের অভাবে মারা যেতনা । অত্র কমপ্লেক্সে একটি ডেন্টাল বিভাগও রয়েছে । কিন্তু ডেন্টাল সার্জন ডাঃ রেজাউল করিম সম্প্রতি বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় ডেন্টাল চেয়ার অকেজো, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ঔষধ অপ্রতূল । ফলে, রোগী সাধারণ পরিপূর্ণ চিকিৎসা নিতে পারছেন না । অত্র উপজেলায় ২১ টি কমিউনিটিক ক্লিনিক রয়েছে । সিএইচসিপিগণ ওখানে বসে রীতিমত চিকিৎসা দিতে পারছেন না । উদিয়ারপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও মৃগা ইউনিয়নের জোড়কান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আলমগীর ফরীদ ,জয়সিদ্ধী ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোছাঃ ফাতেমা আক্তার জানান বেশীরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, আসবাবপত্র ও দরজা জানালা ভাঙ্গা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও ক্লিনিকে আসার মত ভালো রাস্তা না থাকায় এলাকার রোগী সাধারণ সেবা নিতে পাচ্ছেন না । এ নিয়ে কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান এর স্মরনাপন্ন হলে তিনি জানান, আমি উপজেলা সমন্বয় মিটিং-এ আলোচনা করেছি,এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । এর মধ্যে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, বাকীগুলো প্রক্রিয়াধীন। ট্রেনিংপ্রাপ্ত সিএসবিএ দের জন্য গর্ভবতী মহিলাদের চেকআপ ও নর্মাল ডেলিভারীর কোন ব্যবস্থা নেই, ঔষধও অপ্রতূল। ফলে প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের রোগী সাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ