ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বন্যায় স্থানীয় শাক সব্জি বিনষ্ট

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা: সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ১৪৫ টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় খেতের সব ধরণের শাক সব্জি বিনষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলার বাইরের নরসিংদিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শাক সব্জিতে ঠিকে আছে কমলগঞ্জের কাঁচা বাজার। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।
শনিবার(২৩ জুন) সরেজমিন কমলগঞ্জের বড় হাট শমশেরনগর ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলার গ্রামঞ্চল থেকে কোন প্রকার শাক সব্জি বাজারে আসছে না। ক্রেতারা চাহিদামত তরতাজা শাক সব্জি পাচ্ছেন না।
শমশেরনগরের ক্রেতা নজরুল ইসলাম খান আব্দুল ওহাব বলেন, কাঁচা বাজারে গিয়ে চাহিদামত শাক সব্জি পাচ্ছেন না। যেগুলি পাচ্ছেন তা তরতাজা নয়। কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে খেত থেকে সংগৃহীত। এবং এগুলি উপজেলার কোন গ্রামের ক্ষেতের নয়। দামও কিছুটা বেশী।
শাক সব্জি বিক্রেতা অভিনাশ পাল ও জমশেদুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে কমলগঞ্জ, পার্শবর্তী কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার গ্রামের সব ধরনের শাক সব্জি বিনষ্ট হওয়া যায়। ফলে কাঁচাবাজারে এখন স্থানীয় কোন শাক সব্জি আসছে না। এখন বাজারে নরসিংদীসহ অন্যান্য স্থান থেকে সরবরাহকৃত শাকসব্জি বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। তারা আরও বলেন, বাইরের এসব শাক সব্জি না আসলে কাঁচা বাজারে অগ্নিমূল্যে শাক সব্জি বিক্রি করতে হত।
বিক্রেতারা আরও বলেন ফলে এখন বাজারে পূর্বের দামে শাক সব্জি বিক্রি হচ্ছে। দুই একটি শাক সব্জিতে দাম সামান্য বেড়েছে। বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, পটল প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাকরুল ৪০ টাকা, মুখি ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করোলা ৩৫ টাকা থেকে বেড় ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কমড়া (প্রতিটি) ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ (প্রতিটি) ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, আগাম আসা মূলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকা ও আলু ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা ও ধনে পাতা বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শমশেরনগরের কাঁচা মালের আড়তদার ইকবাল মিয়া বলেন, এসময় নরসিংদিসহ বাইরের জেলা থেকে শাক সব্জি না আসলে বাজারে কোন শাক সব্জিই পাওয়া যেত না। এসব শাক সব্জির কারণে ক্রেতারা বলা যায় আগের দামেই কিনতে পারছেন।
কষক ও শাক সব্জি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে জানা যায় কমলগঞ্জ উপজেলার টিলা ভূমি ও চা বাগান এলাকা ব্যতীত গ্রামাঞ্চলের সব শাক সব্জি বিনষ্ট হয়ে গেছে। তবে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বাজারে স্থানীয় শাক সব্জিরর সরবরাহ নেই স্বীকার করে বলেন, তাদের হিসাব মতে কমলগঞ্জে ৩০ হেক্টর জমির শাক সব্জি বিনষ্ট হয়েছে। এখন বন্যার পানিও নেমে গেছে কৃষকরা নতুন করে শাক সব্জি উৎপাদন শুরু করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ