ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উল্লাপাড়া পৌরসভায় নদী দখল করে মুরগীর ফার্ম ॥ তিনটি মহল্লার জনজীবন অতিষ্ঠ

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরে চলমান নদী দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দুটি বৃহৎ মুরগীর ফার্ম। এই ফার্মের বিষ্ঠা পড়ে দুষিত হচ্ছে চলমান নদীর পানি। দূষিত পানিতে গোসল সহ ব্যবহার করে নানা রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ফার্মের দুর্গন্ধে তিনটি মহল্লার সাধারণ মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে উল্লাপাড়া পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না ভূক্তভোগীরা। উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া কালিমন্দিরের সামনে চলমান নদী দখল করে দুটি বৃহৎ মুরগীর ফার্ম গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। কুন্ডুবাড়ি-পালপাড়া নদীর তলদেশ পাকা করে খাম-খুঁটি গেড়ে ওই ফার্মগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। ফার্মটির নিচ দিয়ে চলমান এই নদীর পানিতে ফার্মের মুরগীর বিষ্ঠা পড়ছে। একই সাথে ফার্মটির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ঝিকিড়া কালিবাড়ি, কুন্ডু বাড়ি ও পালপাড়া মহল্লাবাসীর জীবন এখন অতিষ্ঠ। এসব মহল্লার বাসাবাড়িতে ওই ফার্মের দুর্গন্ধে ভাড়াটিয়া সহ বসতিদের থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। ঝিকিড়া কালিবাড়ি মন্দিরের একেবারে গা ঘেঁষে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ফার্ম দুটির কারণে ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ওই মন্দির কমিটি সহ স্থানীয়রা পৌরসভায় প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার পাননি। স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ ভাবে প্রভাব বিস্তার করে রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী ও আরিফ হোসেন ওই ফার্ম দুটি গড়ে তুলেছেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিকিড়া কালিমন্দিরের পাশে নদীর মধ্যে পাকা খাম খুঁটি গেড়ে দুটি বৃহৎ মুরগীর ফার্ম গড়ে তোলা হয়েছে। ওই ফার্মের নিচ দিয়ে চলমান নদীর পানি প্রবাহ রয়েছে। পানিতে মুরগীর বিষ্ঠা পড়ে নোংরা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফার্মটির পাশেই নদীর দূষিত নোংরা পানিতে কাপড় কাঁচা সহ গোসল করছেন ঝিকিড়া মহল্লার গৃহবধূরা। ছেলে-মেয়েরা ওই নোংরা পানিতে গোসল করছে। এ সময় কথা হলে, ওই মহল্লার প্রতিমা রানী, সাবিনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ পানি ব্যবহার করা ছাড়া তাদের কোন উপায় নেই। নোংরা জেনেও তারা এই পানিতে কাপড় কাঁচা, গোসল সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তারা জানান, এ পানিতে গোসল করায় মহল্লার ছেলে-মেয়েরা এলার্জিসহ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফার্মের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তিনটি মহল্লার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। চলামান নদী হলেও প্রভাব বিস্তার করে ফার্ম দুটি দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ