ঢাকা, মঙ্গলবার 26 June 2018, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ১১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালী ইকো-পার্ক পর্যটক পদচারণায় মুখরিত

পর্যটকে মুখরিত বাঁশখালী ইকোপার্ক। প্রধান ফটকেই ভীড় জমেছে পর্যটকে বাঁশখালী ইকোপার্কের ঝুলন্ত সেতুতে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের ভীড় ডানের ছড়া লেকে মিনি স্পীডবোটে বিনোদন নিচ্ছে দর্শনার্থীরা

মো. আবদূল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে পর্যটনপ্রেমীরা প্রিয় মুহূর্তগুলো একান্তে পার করছে বাঁশখালী ইকোপার্কে। তরুণ-তরুণী, আবাল বৃদ্ধা বণিতা সকলের একমাত্র বিনোদনের স্পটে রূপ নিয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট বাঁশখালী ইকোপার্কে। হৃদয় নিংড়ানো আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, চারপাশে ঘন সবুজের সমারোহ, বন্যহাতির বিচরণ, চেনা-অচেনা পাখির মন-মাতানো কিচিরমিচির শব্দ, শীতের অতিথি পাখির বিচরণ, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু, সুউচ্চ টাওয়ার, অজস্র মন কাড়া বিনোদনের বিপুল সমাহার, মনোহারিণী বামের ও ডানের ছড়া লেকের ঝর্ণা কী নেই এখানে। হ্যাঁ, এতক্ষণ  বলছিলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকো-পার্কের কথা। বহুমুখী আরণ্যক সৌন্দর্য ও নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী বাঁশখালী ইকো-পার্ক পর্যটকদের কাছে টানে। বাংলাদেশের একমাত্র দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুটিই এখানে অবস্থিত। স্বচ্ছ জলরাশি, শরতের কাশফুলের দৃশ্য ও বন্যপ্রাণীর হাঁকডাক, ঝাঁকে ঝাঁকে আসা শীতের অতিথি পাখির কলরব আর প্রকৃতি সেখানে এক অন্যরকম মায়ার অনুভূতি তৈরি করে এখানে। একেক ঋতুতে একেক রকম রূপ এই ইকোপার্কের। সারি সারি পাহাড় চূড়ায় নানা প্রজাতির বৃক্ষের সমাহার গ্রাম্যবধূর মতোই শান্ত রূপ নিয়ে যেন ঠায় দাঁড়িয়ে আছে উঁচু-নিচু পাহাড় গুলো। সুউচ্চ পাহাড়ের শীর্ষে ওঠে অনায়াসে দুরবীন ছাড়া খালি চোখেই দেখা যায় অদূরে বঙ্গোপসাগরের অথৈই জলরাশি। বিকালে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য। মনের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে নেওয়ার এক অপূর্ব সমন্বয় বাঁশখালী ইকো-পার্ক। কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও বাঁশখালী চ্যানেল নিয়ে সংযোজিত মোহনায় সামুদ্রিক জলের নানা বর্ণিল দৃশ্য সহজেই উপভোগ করা যায় সু-উচ্চ টাওয়ারের চূড়া থেকে।এখানে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় লেগেছে দেখারমতো। দূর দেশ থেকে আগত অতিথি পাখিদের কলকাকলি এবং বিনোদনপ্রেমীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে এ ইকোপার্ক। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা বাঁশখালী ইকোপার্কে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। একদিকে গান-বাজনা অন্যদিকে অতিথি পাখির কলতান সব মিলিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক বেশ জমে উঠেছে বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণায়।বাঁশখালী ইকো-পার্কে রয়েছে পিকনিক সেট, দ্বিতল রেস্ট কর্নার, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু, সাসপেনশন ব্রিজ, দোলনা, স্লিপার, দ্বিতল রেস্ট হাউস, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ব্যারাক ৪ ইউনিট, গেট, প্রধান ফটক, পাখি ও বন্যপ্রাণী অবলোকন টাওয়ার, ভাসমান প্লাটফরম, লেক, কংক্রিটে শাবের ছাতা, রিফ্রেশমেন্ট কর্নার, ফেনোরোমিক ভিউ টাওয়ারসহ নানা বিনোদনের ক্ষেত্র। প্রধান সড়ক থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় প্রবেশমুখে আগন্তুকদের স্বাগত জানায় প্রধান ফটক বা গেট। ইকোপার্কে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে সবুজ পাহাড়ের হ্রদের পানির সঙ্গে নীল আকাশের লুকোচুরি খেলা, পাখির কোলাহল, ডাহুকের কিচিরমিচির ডাক, হ্রদের পানিতে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে হ্রদে ভ্রমণ অদূরে হারিয়ে যাওয়া। লেকে মাছ ধরার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পর্যটকদের পিকনিক স্পট, রাত যাপনের জন্য কটেজ। যেনো শ্রেষ্ঠ বিনোদনের একমাত্র নন্দিত আয়োজন, প্রকৃতির কোন এক রাজার রাণী।ঈদুল ফিতরের তৃতীয়দিন সোমবার (১৮ জুন) বাঁশখালী ইকোপার্কে জমেছে পর্যটকের ভীড়। হাটহাজারী থেকে আগত এক পর্যটক নওফেল বলেন, ইকো-পার্কে এসে আমরা সবাই অবশ্যই আনন্দিত। এখানে বিশাল সবুজের এক বিচিত্র সমাহার। দু'চোখ যে দিকে যায় মন কাড়া সৌরভে হারিয়ে যেতে মন চায়। বিশাল সবুজের বিচরণক্ষেত্র সত্যিই বাংলাদেশে অদ্বিতীয় একটি স্পট বাঁশখালী ইকোপার্ক। তবে এখানে খাবার দোকানসহ প্রসাধনীর আরো দোকান থাকলে ভাল হতো। চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা আবরার বলেন, সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে এখান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারতো। বিশাল পার্ক জুড়ে পর্যটকদের ছুটাছুটি এবং অতিথি পাখির কলকাকলিতে বাঁশখালী ইকোপার্ক এ ঈদে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের দোকান না থাকায় খাবার খেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জনান, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বিনোদনপ্রেমীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য। পার্কের  ইজারাদার আব্দু শুক্কুর বলেন, বর্তমানে এ পার্কে আগত পর্যটকদের সর্ব প্রকার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকরা নিশ্চিন্তে  আনন্দ উপভোগ করছেন। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে প্রলয়ঙ্করী এক বন্যায় ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে বাঁশখালী ইকোপার্ক সবুজ বনানীতে অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ধারণ করেছে।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে যেভাবে আসবেন: বিআরটিসি এর বাসগুলো ছাড়ে ঢাকা কমলাপুর টার্মিনাল থেকে। আর অন্যান্য এসি, ননএসি বাস গুলো ছাড়বে সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিস গুলো হল- এস.আলম ও সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাসে করে চট্টগ্রাম শহরে নামবেন। সবগুলো বাসই কক্সবাজার যায়। কক্সবাজার চট্টগ্রামের মাঝামাঝিতে বাঁশখালী অবস্থিত।
চট্টগ্রাম থেকে যেভাবে আসবেন: চট্টগ্রাম শহর এর বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাঁশখালীর বাস ছাড়ে। বাস টার্মিনালে বাঁশখালী কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে বাঁশখালী সুপার সার্ভিস বা বাঁশখালী স্পেশাল সার্ভিসে করে ৮০/৯০ টাকা ভাড়ায় বাঁশখালী উপজেলায় জলদিতে বা মনছুরিয়া বাজার নেমে রিজার্ভ সিএনজি করে ১০০/১৫০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি ইকো-পার্ক। চট্টগ্রাম শহর থেকে উপজেলায় পৌঁছতে প্রায় ২ ঘন্টা, উপজেলা থেকে সিনজি তে ২০/২৫ মিনিটে বাঁশখালী ইকো-পার্কে যাওয়া যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ