ঢাকা, বুধবার 27 June 2018, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন সীমান্তে শিশুসহ অবৈধ অভিবাসী আটকের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শিথিল

২৬ জুন, বিবিসি : শিশুসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আটক করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত সপ্তাহে দেওয়া আদেশের পর মেক্সিকো দিয়ে প্রবেশ করা ওই অভিবাসীদের ফৌজদারী মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) ইউনিটের কমিশনার কেভিন ম্যাকআলেনান। জনমতের চাপ ও তীব্র সমালোচনার মুখে দেওয়া ওই আদেশে ট্রাম্প কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুধবারের ওই আদেশে পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখার কথা বলা হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত আটক কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের প্রবেশাধিকার না থাকায় সিবিপির সদস্যরা অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে বিপাকেই পড়েছেন। যে কারণে শিশুসহ প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসীদের আটক না করে তাদের হাতে আদালতের একটি সমন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ম্যাকআলেনান জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যত এখনো বলবৎ থাকলেও এর প্রয়োগ শিথিল করতে সীমান্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা যদি অভিবাসী শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না চান, তাহলে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বাবা-মাদের বিচারের মুখোমুখি করা যাবে না বলেও মন্তব্য এ সিবিপি প্রধানের। সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করা ছাড়াই অভিবাসীদের বিচারের মুখোমুখি করার উপায় বের করতে হবে সিবিপি ও মার্কিন বিচার বিভাগকে,” বলেন ম্যাকআলেনান। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের তাদের সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিচারের মুখোমুখি করতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়ন শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসীর ঢল ঠেকাতে ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে । “বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা কাগজপত্রহীন পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখার জায়গাই নেই। আমরা নীতি বদলাচ্ছি না, কেবল সম্পদের ঘাটতির কথা বলছি,” সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সোমবার এমনটাই বলেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স। কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের টেক্সাসের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে অস্থায়ীভাবে রাখার খবর নিশ্চিত করেছে পেন্টাগনও।ফোর্ট ব্লিস ও গুডফেলোর বিমান ঘাঁটিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রাখা হচ্ছে কিনা তা জানাতে পারেননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। ঘাঁটিগুলোর একটিতে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রাখা হচ্ছে; বাবা-মা কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য ছাড়াই যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে তাদের অন্য ঘাঁটিতে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। সোমবার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে সন্তানদের আলাদা করার প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো আদালতে আবেদন করেছে।অভিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নে ট্রাম্পের আদেশে ‘ফাঁক’ আছে বলেও মন্তব্য করেছে তারা। আদালতে করা আবেদনে এসিএলইউ অসংখ্য অভিবাসীর উল্লেখ করেছে, সীমান্তে বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে যারা সন্তানদের খোঁজ কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। আদালতে জমা দেওয়া কাগজপত্রে ই জে ও ই আদ্যক্ষরের এক নারীর কথাও বলা হয়েছে, সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর কর্তৃপক্ষ যাকে বলেছিল- কেবল শরণার্থী হওয়ার আবেদন করলেই আট বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ মিলবে। পরে সন্তানকে ছাড়াই তাকে ফেরত পাঠানো হয়, দাবি ওই নারীর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশের পরও এখনো দুই হাজার ৫৩টি শিশু পরিবার বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে বলে রোববার এক তথ্য বিবরণীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।যদিও ওই শিশুদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সুসমন্বিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের কাছে থাকা সব শিশুর অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে,” তথ্য বিবরণীতে বলেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ