ঢাকা, বুধবার 27 June 2018, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৪ বছরেও খুলনার সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু হত্যার বিচার হয়নি

খুলনা অফিস : গত ১৪ বছরে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি সম্পাদক হুমায়ূন কবির বালু হত্যার বিচার হয়নি। অবশ্য মামলার একটি অংশ হত্যা মামলার বিচারে কেউই সাজা পায়নি। অন্য একটি অংশে (বিস্ফোরক মামলার) অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আড়াই বছর আগে জমা হলেও তার বিচারকাজ শুরুই হয়নি। এদিকে আজ বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও দৈনিক জন্মভুমি-সান্ধ্য দৈনিক রাজপথের দাবীর পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত ও প্রেসক্লাবস্থ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

২০০৪ সালের ২৭ জুন সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু বোমা হামলায় খুন হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটির একটি অংশ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আ. সালাম সিকদার ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সবাইকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। বিচারক তাঁর মন্তব্যে বলেন, কোনো সাক্ষীই হত্যাকা- সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেননি। অনেক সাক্ষী সাক্ষ্য দেননি। আদালত থেকে সমন জারি করেও সাক্ষীদের আনা যায়নি। উপরন্তু তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল এবং যাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা সাক্ষী করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি বলেও আদালত অভিমত দেন।

দুর্বলতার ধরন বর্ণনা করতে গিয়ে আদালত বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলের মানচিত্র এঁকেছেন; কিন্তু আশপাশের স্থলের কাউকে সাক্ষী করেননি, এমনকি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। রায়ে বিচারক বলেছেন, ‘যা হোক, এ মামলার সব দিক পর্যালোচনা করে আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সারকামসটেনশিয়াল এভিডেন্স পাইনি, যাতে অকাট্যভাবে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।’

হত্যা মামলায় কেউই অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত এবং সাজা না পাওয়ায় বালুর স্বজন ও সহকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন। মামলাটি আবারও তদন্তের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক হত্যা মামলার দুর্বল দিকগুলো উল্লেখ করে বিস্ফোরক মামলাটি আরো তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানান। আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদেশ দেন।

বিস্ফোরক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাইয়ুম শিকদার দায়িত্ব নেয়ার পর দাবি করেছিলেন যে প্রতিবেদনের যেসব দুর্বলতার কারণে আসামি খালাস পায় সেসব বিষয় বিবেচনায় এনে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। কিন্তু সাত বছর ধরে তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাতে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও আর্থিক জোগানদাতাসহ বস্তুগত কোনো সাক্ষ্য বর্ণিত হয়নি। আসামি করা হয় চারজনকে। তাঁরা হচ্ছেন জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ, নজরুল ইসলাম, রিমন ও ইকবাল হোসেন স্বাধীন।

অবশ্য খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) এ চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে। কেইউজের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন দাখিল করা অভিযোগপত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তদন্তে দুর্বলতা ছিল বলেই আদালত আসামিদের সাজা দিতে পারেননি। এ কারণে আবারও তদন্তের আদেশ দেন। প্রায় সাত বছর তদন্তেও কোনো বাড়তি তথ্য না পাওয়া মানে এই আসামীরাও সাজা পাবে না।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকান্ড যখন হয়েছে, খুনি ও পরিকল্পনাকারী ছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করে সাজা দেয়া।’

উল্লেখ্য, হত্যাকা-ের পরদিন খুলনা থানার এসআই মারুফ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক ধারায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বদল শেষে হত্যা মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। অভিযোগ পত্রভুক্তদের মধ্যে চারজন বিডিআর আলতাফ, রিপন আহমেদ ওরফে সোয়েব, সুমন ওরফে শরিফুজ্জামান ও শ্যামল ওরফে দিদার ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় আদালত তাঁদের নাম বাদ দিয়ে সাতজনের নামে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ