ঢাকা, বুধবার 27 June 2018, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নজিরবিহীন ‘শান্তিপূর্ণ ভোট ডাকাতির’ নির্বাচনেও সন্তুষ্ট ইসি

মিয়া হোসেন : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪২৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৪শটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মো. সোহরাব উদ্দিন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ‘নৌকা’ প্রতীকে জাল ভোট দিয়েছে। কোন কোন কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য ব্যালটও পায়নি। এ ভোটকে নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ভোট ডাকাতি হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে গাজীপুরে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। মাত্র ৯টি কেন্দ্রে জাল ভোট ও অনিয়মের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তারা আর কোন অভিযোগ পায়নি। সরকারের মনের মতো নির্বাচন উপহার দিয়ে আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই গাজীপুর নির্বাচনকে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকরা সরেজমিনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, অধিকাংশ কেন্দ্রেই বিএনপির কোন এজেন্ট ছিল না। তাদের আগে থেকেই হুমকি ধমকি দিয়ে কেন্দ্রে আসতে বারণ করা হয়েছে। বেশকিছু এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেশকিছু কেন্দ্রের ভেতর থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪শ কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. সোহরাব উদ্দিন।
এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। হাসান সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, বিকেল ৩ টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন জোরপূর্বক নৌকায় সিল মেরেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কাউলতিয়া ২১ নং ওয়ার্ড জহিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়নি।
এর আগে গতকাল রাতে ৩১ নং ওয়ার্ড ধীরাশ্রম কেন্দ্রের এজেন্ট এবং বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মানিককে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর বিকল্প এজেন্ট সেলিম রেজা দায়িত্ব পালন করতে গেলে ডিবি পুলিশ তাকেও ধরে নিয়ে যায়।
একই সঙ্গে ১১ নং ওয়ার্ড খোলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ডিবি পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন ঢুকে বিএনপির সিরাজুল ইসলামসহ  এজেন্টদের বের করে দেয়।
পাশাপাশি ৭ নং ওয়ার্ড দারুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্র, ৩০ নং ওয়ার্ড বালুচাপলি কেন্দ্র, ৩০ নং ওয়ার্ড নীলের পাড়া কেন্দ্র, ৩০ নং ওয়ার্ড কানাইয়া কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলমেশ্বর প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে বিএনপির সাতজন এজেন্টের কাছ থেকে কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ৫ নং ওয়ার্ড বাগবাড়ী কেন্দ্রে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন তা-ব চালিয়েছে। ৪ নং ওয়ার্ড সারদাগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ২ নং ওয়ার্ড লতিফপুর কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিয়ে নুরুল হক মেম্বারের নেতৃত্বে সকাল থেকে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে। জরুন ইসমাইল পাঠান একাডেমি কেন্দ্রের এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। ৮ নং ওয়ার্ড পারিজাত কেন্দ্র ছাত্রদল নেতা হিমেলকে মারধর করে ২২ জন এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কাশিমপুর ৬ নং ওয়ার্ড পাইন শাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। লোহাকুর মাজার কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন সংবাদকর্মী জানান, দুপুর বেলা ১২ টা। গাজিপুর সিটি করপোরেশনের বড় এলাকার ৩৭ নং ওয়াডেৃর মির্জা ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্কুল ভোটকেন্দ্র। কেন্দ্রের বাইরে ভোটারের লম্বা লাইন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রেরই একটি বুথে ভোট দিতে ঢুকেন এক তরুণী। যথারীতি তাকে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট পেপার দেয়া হয়। তৃতীয়টি অর্থ্যাৎ মেয়র প্রার্থীর ব্যালট নিতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন জানায়, ‘মেয়রে ভোট দেয়া লাগবে না।
এ ভোট তারা নিজেরাই দিয়ে দিচ্ছে।’ তাকে আরো জানানো হয়, তার ব্যালটে সিলমারা হয়ে গেছে। পরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বের হয়ে আসেন প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া এ নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী আরো জানান, ওই স্কুলের দুই তলার কক্ষগুলোতে জাল ভোটের এসব ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, তারা মেয়র প্রার্থীর ব্যালটে আগে থেকেই নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রেখেছে। কোন ভোটার গেলে তাকে দু’টি ব্যালট পেপার দিচ্ছে। বাকি মেয়রের ভোট তারা নিজেরা দিচ্ছে। একই ওয়ার্ডে পার্শ্ববর্তী হাজী আবদুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিরাজ করছে। দুপুর দেড়টার দিকে জানা গেছে, এ কেন্দ্রটিতে নৌকার পাশপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক ঠেলাগাড়িতেও সিলমারা রয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারছেন ভোটাররা।
সন্তুষ্ট ইসি
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব  হেলালুদ্দীন আহমেদ। এ নির্বাচনে ইসি সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘গাজীপুরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। নিজস্ব পর্যবেক্ষক দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। ৪২৫ টির মধ্যে ৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এই ৯টি কেন্দ্রে অচিরেই নির্বাচন হবে। আমাদের নির্দেশ ছিল কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে তা বরদাশত করা হবে না। প্রিসাইডিং অফিসারদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এসব কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে দিই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। তাদের অভিযোগের ব্যাপারে আমি কোনো কিছু জানি না।’
জাল ভোটের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’
বিএনপির ধন্যবাদ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত বৈঠকে এই ধন্যবাদ জানায় দলটি।
 বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু জানান, সরকারের চাহিদা মতো নির্বাচন দিয়ে আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন যে রাস্তাটি তৈরি করেছে তার জন্য সিইসিকে ধন্যবাদ দিয়েছে বিএনপি।
গতকাল বিকেলে সিইসি কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসে। বৈঠকে আরো ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স।
 বৈঠক শেষে বরকত উল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, আজকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে এজন্য ওনাদের আমরা ধন্যবাদ দিয়েছি। সরকার যেভাবে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন সেভাবে নির্বাচন করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। আমরা সিইসিকে বলেছি, আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনার জন্য আপনারা যে রাস্তাটি তৈরি করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। আপনাদের কাছে আপাতত আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই।
বুলু বলেন, আজকে নির্বাচন কীভাবে হয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে। গাজীপুরে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের থেকে পুলিশের ভূমিকা বেশি ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অভিযোগ করে বলেন, আমরা অভিযোগ করি নির্বাচন কমিশনের কাছে। আর উত্তর দেয় এইচ টি ইমাম সাহেব, ওবায়দুল কাদের সাহেব। আমরা তো তাদের কাছ থেকে উত্তর চাই না। আমরা কমিশনের কাছ থেকে উত্তর চাই।
আলাল বলেন, আমরা সিইসিকে সব কিছু জানানোর পর তিনি আমাদের নেতাকর্মীদের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো গাজীপুর সিটি নির্বাচনের শুরু থেকেই সেখানকার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা এ বিষয় মাথায় নেয়নি। সেখানকার পুলিশ সুপার, তার নেতৃত্বে জ্যাকেট পরা ডিবি পুলিশ সেখানে আজকে চূড়ান্ত রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন। পুলিশ আমাদের এজেন্টদের প্রথমে একটি রুমে নিয়ে যায়। তারপর ডিবি পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায় এবং বলে চলে, কথা আছে। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আলাল আরো বলেন, ইসির মোবাইল টিম, মনিটরিং টিম থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি।
ইসিতে আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই গাজীপুর নির্বাচনকে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের চার সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে বিকেল ৩টায় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এসব কথা বলেন।
এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওসার, শিক্ষা ও মানব সম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুর নাহার চাঁপা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর সবুর।
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘বিএনপি তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই, চমৎকার পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি কখনো অভিযোগ করছে ২১টি কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আবার কখনো বলছে ১০০টি। কিন্তু কাদের বের করে দেওয়া হয়েছে তার কোনো নির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা তারা দেখাতে পারেনি। সংখ্যা দিয়ে তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মোট ২৪৫টা কেন্দ্র থেকে যদি পাঁচটি কেন্দ্র স্থগিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটা নির্বাচনের মূল ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না।’
আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি যে, গত রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দুই নেতা গাজীপুরে অরাজকতা সৃষ্টি করে, তার ভিডিও ধারণ করেছে। পরে সেটা ভাইরাল করে দিতে বলেছেন। আজকে যতটুকু বিশৃঙ্খলা হয়েছে, আমার মনে হচ্ছে, এটা বিএনপির পরিকল্পনার অংশ। দেশের বাইরে থেকেও তাদের (বিএনপি) কোনো কোনো নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে।’
এ ছাড়া এই বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ