ঢাকা, বুধবার 27 June 2018, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মঙ্গলগ্রহ নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই

আবু হেনা শাহরীয়া: মঙ্গলগ্রহ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ ক্রমশ: বাড়ছে। এরই মধ্যে গ্রহটিতে মানব বসতি গড়া যায় কিনা তা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলছে, মঙ্গলগ্রহে অদূর ভবিষ্যতে মানুষ বসবাস করতে পারবে। মঙ্গলের ভূমিকম্পের তথ্য থেকে গ্রহটির অভ্যন্তরের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পেতে চলতি সপ্তাহে নতুন মিশনে নামছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ইনসাইট নামের এই মিশনের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই একটি অনুসন্ধান যন্ত্র লাল গ্রহটিতে পাঠানো হচ্ছে। স্ট্যাটিক ল্যান্ডার যন্ত্রটি মঙ্গলে নামার পর সেখানকার মাটিতে সিসমোমিটার স্থাপন করবে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সিসমোমিটারে যুক্তরাজ্যের তৈরি একটি সেন্সরও থাকছে। এই ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের ভূমিকম্প‘মার্সকোয়াক’ সম্বন্ধে তথ্য দেবে। পৃথিবীর সঙ্গে তুলনার পর মিলবে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে থাকা পাথরের স্তর সংক্রান্ত তথ্যও।
“যখন সিসমিক তরঙ্গ মঙ্গলের চারপাশে প্রবাহিত হবে, তখন (যন্ত্রটি) বিভিন্ন স্তরের পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তরঙ্গগুলোর তথ্য জোগাড় করতে পারবে। সিসমোগ্রাফে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরই বিজ্ঞানীরা সেখানকার পাথরের গঠন জানতে পারবেন। বিভিন্ন মার্সকোয়াক থেকে যখন আমরা নানান তথ্য পাবো, সব মিলিয়ে আমরা মঙ্গলের অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক চিত্রটি নির্মাণ করবে পারবো,” বলেন ইনসাইট মিশনের প্রধান গবেষক ড, ব্রুস বেনার্ডট।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভেন্ডেনবার্গ বিমান ঘাঁটি থেকে অ্যাটলাস রকেটের সাহায্যে ইনসাইডের এ ‘ল্যান্ডারটি’ পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে অ্যাটলাসের যাত্রা শুরুর কথা, যদিও কুয়াশার কারণে তা বিলম্বিতও হতে পারে।
গত শতকের ৭০ এর দশকেও নাসা বেশ কয়েকটি ভাইকিং ল্যান্ডারে মঙ্গলে সিসমোমিটার পাঠিয়েছিল। যদিও গঠনের কারণে সেগুলো তেমন সফলতা এনে দিতে পারেনি। ইনসাইটের এবারের ল্যান্ডারটি তিন মাত্রার নিচের ভূমিকম্পও সনাক্ত করে, সে বিষয়ে তথ্য পাঠাতে পারবে। এই যন্ত্র বছরে ঠিক কতগুলো কম্পন সনাক্ত করতে পারবে, তা জানাতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের আশা ল্যান্ডারটি থেকে অন্তত কয়েক ডজন ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যাবে। মৃদু ভূমিকম্পগুলোর তথ্য থেকেও যে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাবে তা দিয়ে মঙ্গলের গঠন এবং এর গভীরতা নির্ণয় করা যাবে বলেও ধারণা তাদের।
এদিকে পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমেই আশা জোরদার হচ্ছে। বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা মুখে না বললেও মঙ্গল নিয়ে তাদের গবেষণার মাত্রা লক্ষণীয়। মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশই শুধু নয়, ভারত এমনকি সৌদি আরবও নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এমন জল্পনার মাঝে প্রায়ই এলিয়েন বিশ্বাসীরা নাসার রোবট যান কিউরিসি’র পাঠানো বিভিন্ন ছবি নিয়ে নানা দাবি তোলেন। তবে খোদ নাসাই এবার সম্ভবত মঙ্গলে প্রাণ থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে চলেছে!
ন্যাশনাল জিওগ্রাফির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং স্পেস ডট কম সম্প্রতি জানিয়েছে, মঙ্গল পৃষ্ঠে কিউরিসিটি রোভার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে। যা নিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা গবেষণার পর মুখ খোলা জরুরী বলে মনে করছেন।
নাসার মঙ্গলযান গ্রহটিতে ৩শ’ কোটি বছরের পুরনো একটি পাললিক শিলায় প্রাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই পাললিক শিলায় অর্গানিক মলিকিউলস (ঙৎমধহরপ গড়ষবপঁষবং)র সন্ধান মিলেছে। এটি এমন এক জৈব অণু যেটিতে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনসহ প্রাণের অস্তিত্বের স্বপক্ষে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বহন করে। এই অর্গ্যানিক মলিকিউলসের প্রমাণ দেখে বিজ্ঞানীরা মিলিয়ে নিতে চাচ্ছেন, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহে আসলেই  প্রাণ ছিল কিনা।
বর্তমানে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ প্রাণের উপযোগী না হলেও ভবিষ্যতে তা করা যাবে কিনা সে ব্যাপারেও আগ্রহী পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে বাসযোগ্য কলোনি তৈরি করাসহ সেখানে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে বর্তমানে মানুষের উপর নানা গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানেই শেষ নয়, মঙ্গল পৃষ্ঠকে সবুজে পরিণত করতে মহাকাশে উদ্ভিদ বিকাশের গবেষণাও চলছে জোর কদমে। মঙ্গলের কঠিন আবহাওয়ায় কিছু উদ্ভিদ নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম বলেও বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গল গ্রহের বিশাল গহ্বর ক্রেটার’এ একসময় পানি ছিল বলে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, সম্প্রতি সেখানে পাললিক শিলার যে খোঁজ তারা পেয়েছেন তা প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ বলেই ধরে নেয়া যায়। তবে তাদের ধারণা শতভাগ সঠিক কিনা তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ