ঢাকা, বুধবার 27 June 2018, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২২ বছর পর বাড়ি ফিরল বাক প্রতিবন্ধী রুমা

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : দীর্ঘ ২২ বছর পর গতকাল দুপুরে বাড়ি ফিরেছে বাক প্রতিবন্ধী রুমা( ৪৫)। রুমাকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তার পরিবার। ২২ টি বছর আগে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পথ হারিয়ে আর বাড়ি ফিরতে না পারা রুমার অভাবী পিতার সংসারে এখন আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের ধানগড়ায়। জানা যায়, পৌরসভার মোজাম্মেল সরকারের বাকপ্রতিবন্ধী রুমাকে নাবালক বয়সেই বিয়ে দেন তার পরিবার। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পর রুমা বাড়িতে ফিরে এলে তাকে বকাঝকা করেন তার অভিভাবকরা। রুমা তাদের কথা শুনতে না পারলেও বুঝতে পেরে নিজকে আড়াল করার জন্য বাড়ি থেকে চলে যায়। কিন্তু পথ ভুলে আর বাড়িতে  ফিরতে পারেনি সে। এর মাঝেই রুমার জীবন থেকে চলে গেছে ২২ টি বসন্ত। হাতের ইশারায় রুমা বলেন, গাড়ীতে করে চলার পথে কোন এক জাায়গায় নামিয়ে দেয় গাড়ীর লোকজন। কিন্তু রাত নেমে এলে কোথায় আশ্রয় না পেয়ে ঘোরাঘুরি করার সময় টহলরত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ১০ দিন থানায় রাখে। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলে কোথায় যাব ভেবে না পেয়ে অন্য একটি গাড়িতে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি শুরু করে। এ সময় নরসিংদীর এক লোকের সাথে বিয়ে হয় তার। অবস্থান হয় ঢাকার বাহিরে কোন এক স্থানে। সংসারে এক সময় চলে আসে ৩ টি সন্তান। কিন্তু রুমার স্বামী নেশা করার কারণে বেদম নির্যাতন করত তাকে। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে হত প্রতিনিয়ত। তার পরেও স্বামী সন্তানের  প্রতি নিখাদ ভালবাসার টানে ঢাকা থেকে  পাড়ি জমায় স্বামীর নরসিংদীর বাড়িতে। সারা শরীরে তার নির্যাতনের চিহ্ন । রুমা বলেন, গত কয়েকদিন আগে নরসিংদীর এক বাজারে পানের দোকানে গিয়ে জর্দার কৌটায় দেখা মেলে তার ছোটকালে কাজ করে খাওয়া মালিকের ছবি। ছবি দেখে সে প্রতিবেশী ধর্মভাইকে জানায় যে এখানেই তার বাড়ী। অনেক বুঝানোর পর রুমাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে তার ধর্মভাই রাজু সরকার। রুমাকে দেখে প্রথমে কেউ চিনতে না পারলেও তার বৃদ্ধা মা তাকে চিনে হাউ মাও করে কেঁদে উঠে। বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে মানুষের আনাগোনাও বেড়ে যায়। পরে ঘর থেকে বাড়ীর লোক,বাড়ী থেকে প্রতিবেশী, প্রতিবেশী থেকে সমাজের সকল মানুষের কানে চলে যায় রুমা ফিরে আসার কথা। রুমার বাড়িতে এখন মানুষের ভীড়। তার জীবনে বয়ে যাওয়া ঘটনা শুনে অনেকেই কাঁদছে । তবে বৃদ্ধ পিতা মাতার অভাবী চোখে হাসির ঝলক দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ