ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ রাজ্যের মামলা

২৭ জুন, আল জাজিরা : মেক্সিকো সীমান্তে আলাদা হওয়া অভিবাসী পরিবারগুলোকে একত্রিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ১৭টি অঙ্গরাজ্য। ডেমোক্র্যাটিক আইনজীবীদের নেতৃত্বে রাজ্যগুলো ওয়াশিংটন ডিসি মিলিত হয়ে সিয়েটলে যুক্তরাষ্ট্র ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই মামলা করেছে। অভিবাসন ইস্যুতে রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে এটাই প্রথম আইনি পদক্ষেপ।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী রাজ্যগুলো হলো, ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, আইওয়া, ইলিনোয়িস, মেরিল্যান্ড, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, ওরেগন, পেনিসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্মোন্ট, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটন।  

এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তার এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান ফার্স্ট লেডি, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারা। ক্ষুব্ধ হন সাধারণ মার্কিনিরাও। দেশের বাইরেও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো-ও এর সমালোচনা করেন। চাপের মুখে ট্রাম্প বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প।

ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল গুরবির গ্রিওয়াল বলেন, ‘পরিবারগুলোকে আলাদার করার পদ্ধতি নিষ্ঠুর, স্পষ্ট ও সাধারণ’। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে প্রশাসন প্রতিদিন নতুন স্ববিরোধী নীতি চালু করছে আর নতুন নতু অসঙ্গতিপূর্ণ যুক্তি হাজির করছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না এতে প্রকৃত জনগণের জীবন সুতোর ওপর ঝুলছে।’

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৩০০ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলেছে। এসব শিশুর কান্নার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পাওয়া পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। অনেক বাবা-মাকে তাদের সন্তানের থেকে হাজার মাইল দূরের জেলখানায় রাখা হয়েছে।  সেখান থেকে তাদের মধ্যে দেখা হওয়ার  কোনও সুযোগ নেই। এমনকি তারা মাসে মাত্র একবারের জন্য ফোনে কথা বলতে পারেন।

বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের দোষারোপ করার পাশাপাশি শুধু কংগ্রেসে বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে বলে এতদিন দাবি করে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে গত সপ্তাহে পদ্ধতিটি বন্ধ করার জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তবে রাজ্যগুলো বলছে, ট্রাম্পের আদেশটি অনেকটা হেয়ালিপূর্ণ। আর এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের বাবা-মায়ের সঙ্গে একত্রিত করার কোনও নির্দেশনা নেই।

রাজগুলোর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মা-বাবা ও শিশুদের জন্য সঠিক প্রক্রিয়া না মানা, মধ্য আমেরিকার গোষ্ঠী সহিংসতার হাত পালিয়ে আসা অভিবাসীদের আশ্রয় নেওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করা ও বিচ্ছিন্ন করার নীতি বাস্তবায়নের জন্য স্বৈরাচারী আচরণেরও অভিযোগ এনেছে। দেশব্যাপী বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশু ও তাদের মা-বাবাকে একত্রিত করার জন্য প্রশাসনকে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের মাধ্যমে আদেশ দেওয়া হবে কিনা তা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগোর একজন বিচারক। সোমবার সিয়েটলভিত্তিক অভিবাসী অধিকার সংগঠনও ওয়াশিংটন রাজ্যে আটক হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করেছেন। এসব আটক ব্যক্তিরাও তাদের সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ