ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আরও একটি তামাশার নির্বাচন ॥ গণতন্ত্রের লাশের যাত্রা দীর্ঘতর হলো

# সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন মিথ্যাচার করছে
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে শুধুমাত্র একটি তামাশা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে আরেকটি কলংকজনক নির্বাচন হিসেবেই লিপিবদ্ধ থাকবে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে দখল, ভোট ডাকাতি এবং বিরোধীদের ওপর নির্যাতন করেছে তাতে সংসদ নির্বাচনে যে কি হবে তা এখনই আন্দাজ করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে যেভাবে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে তা নজির বিহীন মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারই নয়, ভোট ডাকাতির এ নির্বাচনের সাথে নির্বাচন কমিশন সরাসরি জড়িত। এদিকে ২০ দলীয় জোট ছাড়াও বাম রাজনৈতিক দলগুলোও গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে বলেছে, সংগঠিত ভোট ডাকাতি, ব্যালট ছিনতাই, প্রকাশ্যে সিল মারা, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, কোথাও ঢুকতেই না দেয়ার মধ্য দিয়ে আরো একটি অগণতান্ত্রিক নির্বাচনের মহড়া সমাপ্ত করলো মহাজোট সরকার। এতে করে গণতন্ত্রের লাশের যাত্রার মিছিল আরো দীর্ঘতর হলো।
স্মরণকালের ইতিহাসে ভোট ডাকাতির নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। ৪১৬ কেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। হাসান সরকারের চেয়ে দুই লাখ দুই হাজার ৩৯৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমতউল্লাহ খানকে এক লাখ ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন বিএনপি নেতা এম এ মান্নান। এবার দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপি প্রার্থী করে প্রবীণ নেতা হাসান সরকারকে।
গাজীপুরের নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, যে রকম নির্বাচন হবার কথা ছিল সেরকমই হয়েছে। এর থেকে বেশি কি আমরা আশা করেছিলাম? তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত এ ধরনের নির্বাচনের কোনো চ্যালেঞ্জ হবেনা ততদিন এভাবেই চলবে। শুধু মুখে মুখে অনিয়মের কথা বললে হবে না। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনে কি হয়েছে সেটি সবাই দেখেছে। তাহলে তারা আদালতে যাচ্ছেনা কেন? আমি বুঝতে পারিনা তারা কি নির্বাচন করতে চাচ্ছে নাকি নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতি করতে চাচ্ছে। যদি অনিয়ম হয় তাহলে তারা কেন কোর্টে যাচ্ছেনা। যা ঘটেছে তার প্রমাণ তো তাদের কাছে থাকার কথা। তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আমরা তো প্রমাণ ছাড়া শুধু দেখছি। তিনি বলেন, মুখের কথায় কারো কিছু হবেনা। চ্যালেঞ্জ করলেই কেবল নির্বাচন কমিশনের কিছু করার থাকবে।
দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাবির সাবেক ভিসি ড. প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বার বার বলছি এই সরকারের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করাটা বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দিবেনা। তিনি বলেন, গাজীপুরের নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ভোটাধিকার ফিরে পাবার জন্য রাজপথে নেমে আসতে হবে। তাহলেই ভোট ডাকাতি বন্ধ হবে। না হলে এরা কেন্দ্র দখল করেই যাবে। কেউই তাদের বাধা দিতে পারবেনা। এদের রুখে দেয়ার শক্তি কেবলই জনগণ। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
গাজীপুরের নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গাজীপুরের নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন বা তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এক নির্বাচনের প্রভাব অন্য নির্বাচনে পড়ে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ না হয়, এই নির্বাচন যদি বিশ্বাসযোগ্য না হয়, নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয় পরবর্তী নির্বাচন যে বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। বরং অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। খুলনার নির্বাচন থেকেও ভয়াবহ ভোট ডাকাতি হয়েছে গাজীপুরে। যেটি দেশের সব মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন সব কিছুই ওপেন। নৌকার পক্ষে সিল মারা, বিরোধীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্রে আসতে না দেয়া এসবই ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে। তিনি বলেন, এত কিছুর পরও সরকার ও ইসির ইচ্ছের পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হয়না। তিনি বলেন, আমরা শুধু মুখেই গণতন্ত্র শব্দটা শুনতে পাই। বাস্তবে গণতন্ত্র আছে বলে মনে হয়না। যদি গণতন্ত্রের লেশমাত্র থাকতো তাহলে নির্বাচনের নামে এরকম তামাশা হতোনা। 
স্থানীয় সরকারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তুলনা করা যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো তুলনা করা যায় না। এই অর্থে তুলনা করা যায় না যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন হয় না। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন হয়। তবে স্থানীয় সরকার যদি সুষ্ঠু না হয় কীভাবে ধরে নিব যে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তো বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কোথাও সমস্যা হয়নি। আসলে নির্বাচন কমিশন যে সরকারের নির্দেশেই সবকিছু করছে তা বুঝতে কারো সমস্যা হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনগুলোতেও যদি এভাবে নির্বাচন হয় তাহলে সংসদ নির্বাচনের আর দরকার পড়বেনা। কারণ তখন কি হবে সেটি এখনই বুঝা যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে না হয়নি তা নিয়ে তো প্রশ্নই তোলা যাবেনা। কারণ পুরো দেশ যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি তাতে সরকারের কিছু যায় আসেনা। তিনি বলেন, গাজীপুরে যেটি ঘটেছে তাতে অন্য নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবেনা তা শতভাগ নিশ্চিত। তারপরও হয়ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি বলেন, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানাচ্ছে সেটি গাজীপুরের নির্বাচনের মাধ্যমে আরো প্রবল হলো। 
বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন হয়তো দলবিহীন গণতন্ত্র চাইছে তাই দেশে ভোট ছাড়াই নির্বাচনের প্রচলন চালু করেছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে সরকারি দল আওয়ামী লীগ দাবি করছে। যদিও এটিই বিতর্কিত ও দখলের নির্বাচন নয়। অতীতের প্রায় সব নির্বাচনই ছিল একতরফা। যেখানে বিরোধী প্রার্থীরা শুধুই দর্শক। তিনি বলেন, গাজীপুরে যেভাবে আতংক তৈরি করা হয়েছে, বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে, প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে সিল মারা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাতে কোনভাবেই সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে সেটি বলা যাবেনা।
ইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে দিনভর অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু কমিশন সেটি আমলে নেয়নি। এখন তাদের উচিৎ হবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা। দেশের প্রায় সব মিডিয়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলেই শিরোনাম করেছে। তিনি বলেন, শুধু সরকার আর ইসিই বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এটি তামাশার নির্বাচন ছাড়া আর কিছুই নয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশই নেই। এখন শুধু সরকারি দলের জন্যই ক্ষেত্র প্রস্তুত। এখানে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররাই শুধু নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধীরা সেই সুযোগ পাচ্ছেনা। নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে সবার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। সবার জন্য সমান সুযোগ না করে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। 
ইসির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো রাজনৈতিক দলকে আর নিবন্ধন দিচ্ছে না। তিনি বলেন কয়েকটি সক্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত রাজনতৈকি দলকে তারা নিবন্ধন দিচ্ছে না। অথচ প্রতিদিন এই দলগুলো নানান কর্মসূচিতে আছে। নির্বাচন কমিশন আসলে একটা আতঙ্কে আছে, কেননা এদের জনমুখী রাজনীতি বিকশিত হলে অগণতান্ত্রিক শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর এজেন্টদের জোর করে বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করে জোর করে নৌকা মার্কায় সিল মারাসহ নানা অনিয়মের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে একটি প্রসহসনের নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে সেখানে পুন:নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান সরকার ও তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধিনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, তার সর্বশেষ প্রমাণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। খুলনার পর গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত পরিকল্পনায় সরকার দলীয় প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণার জন্যে নির্বাচনের ডিজাইন নির্ধারণ করেছে। খুলনার মত গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও প্রশাসন ও সরকারের পেশী শক্তি ব্যবহার, ২০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থক- কর্মীদের গ্রেফতার, ভীয়ভীতি প্রদর্শণ, ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করে নৌকা মার্কায় সিল মারাসহ নানা অনিয়মের ঘটনা দেশবাসীর কাছে সুস্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের নামে এ ধরনের প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে যাচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা দেশকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেবে। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায় দায়িত্ব বর্তমান সরকার, দলীয় প্রশাসন ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।    
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো বাস্তবতাও ছিল না। বরং সরকার, প্রশাসন ও দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ এবং বিজয় নিশ্চিতে যা যা প্রয়োজন সবই সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাইরে সুনসান ভেতরে গড়বড়ের কূটকৌশল গণতান্ত্রিক চেতনাকে নির্বাসিত করেছে। প্রজাতন্ত্র থেকে জনগণের অংশগ্রহণকে বিচ্ছিন্ন করেছে-যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিল সাজানো। এর ফলাফলও ছিল পূর্বনির্ধারিত। যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। এই নির্বাচন সরকারদলীয় ও প্রশাসনের নিবিড় ম্যাকানিজমের মাধ্যমে হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে না পারার ব্যর্থতা নির্বাচন কমিশনের। তিনি বলেন, মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণের সময় সকাল থেকেই অনেক এলাকায় সরকারদলীয় ছাড়া অন্য দলের এজেন্টরা দাঁড়াতেই পারেননি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এলাকায় এলাকায় মহড়া, নানান কলাকৌশলে পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়। এরপর কয়েকটি এলাকায় বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের থাকতে না দেয়া, ভাঙচুর, ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে বেআইনিভাবে সিল মারার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষ ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের তুলনায় অনেক কম ছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কোথাও কোথাও নির্বাচন কমিশনকে অসহায় থেকে সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ক্রীড়নকে পরিণত হতে দেখা গেছে।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতারা বলেছেন, সংগঠিত ভোট ডাকাতি, ব্যালট ছিনতাই, প্রকাশ্যে সিল মারা, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, কোথাও ঢুকতেই না দেয়ার মধ্য দিয়ে আরো একটি ‘অগণতান্ত্রিক’ নির্বাচনের মহড়া সমাপ্ত করলো মহাজোট সরকার। এই মহড়ায় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করে সন্ত্রাসের শান্তি কায়েমের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনের মতই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সমাপ্ত হলো। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী ঘোষিত হলো এবং গণতন্ত্রের লাশযাত্রার মিছিল দীর্ঘতর হলো। বুধবার গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় তারা এসব কথা বলেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারা আরো বলেন, অনির্বাচিত জনসমর্থনহীন এই স্বৈরতন্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কিছু হবে না। জনগণের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারসহ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ