ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমরণ অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ ৩৮ শিক্ষকের শরীরে চলছে স্যালাইন

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৫ জানুয়ারি ২০১৮ সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৮তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনের সময় যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে অসুস্থ শিক্ষকদের তালিকাও ততো লম্বা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন শেষে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। একদিন পরেই সেই সংখ্যা ৩৮ জনে গিয়ে ঠেকেছে। অসুস্থ শিক্ষকরা বলেন, অপমান, লজ্জা আর যন্ত্রণার জীবন চাই না। এমপিও‘র দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত্যু হলে হয়ে যাক, তারপরেও এমপিও ছাড়া বাড়ি ফিরে যাবো না।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ১৭ দিন ও আমরণ অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচির টানা তৃতীয় দিন পার করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষকরা দাবি আদায়ে এমন কঠিন কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনে এ গতকাল পর্যন্ত ৩৮ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, অসুস্থ শিক্ষকদের শরীরে চলছে স্যালাইন। গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
‘মা ভাত দাও, এমপিওভুক্তি ছাড়া ক্লাসে ফিরে যাবো না’, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে’, ‘এক দফা এক দাবি এমপিওভুক্তিকরণ করতে হবে’ এমন নানা স্লোগান লেখা প্লাকার্ড ফেস্টুন বুকে ঝুলিয়ে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে আমরণ অনশন পালন করে যাচ্ছেন। গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশের রাস্তার ওপর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা আন্দোলনের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পেয়ে গত সোমবার থেকে আমরণ অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। ‘সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা টি-শার্ট গায়ে ও ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ফিতা মাথায় বেধে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাকতা করে বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা বার বার রাজপথে নেমে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের শুধু আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফেরানো হয়েছে। নিজের ন্যায্য পাওনা আজও পাইনি। বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা মানবেতর জীবন যপান করছি। শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বর্তমানে নীতিমালা, কমিটিসহ নানা আইন তৈরি করে এমপিওভুক্তি না করে আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা তা মেনে নেব না। বিগত সময়ে স্বীকৃতি দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে কোনো নীতিমলার আওতায় আনা যাবে না। তারা বলেন, আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেলেও ২০ বছরেও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছি। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানের ভরণ-পোষণ করতে পারছি না। আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাও ধুলাই মিশে যাচ্ছে। তাই অনেক শিক্ষক পেটের তাগিদে রাতে ভ্যান, রিক্সা, ট্যাক্সি চালাতে বা দিনমজুর খাটতে বাধ্য হচ্ছেন। তারপরও এমপিওভুক্তির সুসংবাদের আশায় শিক্ষাকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ধৈর্যের সকল বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এমন অবিচার কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় ভুষণ রায় বলেন, আমরা টানা ১৭ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরণ অনশনের পথ বেছে নিয়েছি। তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় রাজপথে নেমেছি।
তিনি আরও বলেন, রাজপথে খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর বৃষ্টির পানি-কাদা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যে না খেয়ে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শিক্ষকদের শরীরে স্যালাইন চলছে। তিনি এ আন্দোলনে কোনো শিক্ষকের রাজপথে মৃত্যুর দুঃসংবাদ পাওয়ার আগেই স্কীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ