ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যে যাই বলুক মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবেই -প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার : চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদক এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এটা রোধ করতেই হবে। যে যাই বলুক; আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা অব্যাহত থাকবে। কে কি বললো তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। মাদকের ছোবল থেকে আমাদের ছেলে মেয়েদের বাঁচাতে এটা আমাদের করতেই হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, রাখবো।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনার শেষদিনে আরও বক্তব্য রাখেন- চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিকল্পণা মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, নুরুল মজিদ মাহমুদ আলী, ইকবালুর রহিম, গোলাম দস্তগীর গাজী, উকবালুর রহিম, জয়া সেনগুপ্ত, ছলিম উদ্দিন তরফদার, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, হাফিজুর রহমান, শরীফ আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী এসময় চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনা করে চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চালু করি। কিন্তু যারা এই কোটার সুবিধাভোগী তারাই তা চাইল না। এমনকি মেয়েরাও বলছে তারাও তাদের জন্য কোটা চায় না। আমি বলেছি তারা যখন চায় না তখন কোটার দরকার নেই। এ বিষয়ে কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বলেছি কোটা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা তিনি ঠিক করবেন। এরপরে যদি কেউ কোন মফস্বলে কেউ চাকরি না পায় তাহলে আমাদের দায়ি করতে পারবে না। তবে এখানে বিরোধী দলের নেত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট করে বললেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই তাদের প্রতি আমাদের বর্তব্য রয়েছে। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্তুতির জন্য কোটা থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১ বছরের জন্য বাজেট করি না। আমরা দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে ১০০ বছরের ডেলটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এ বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ নিজেদের, ধার করা নয়। সে অনুযায়ী আমরা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছি। মূল্যস্ফিতির কলাকৌশল আমরা বুঝে গেছি। সে অনুযাযী টিসিবির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেই। এবারে রোজার সময় মূল্যস্ফিতি ৫ দশমিক ৬ ভাগ ছিল। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। এখন আর ঘন ঘন লোডশেডিং হয় না। আমরা যে টাকায় উৎপাদন করি তার চেয়ে কম টাকায় বিক্রি করি। আমরা এলএনজি আমদানি করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেনি। ১৯৬৪ সালের পরিকল্পনায় ছিল। এটা বঙ্গবন্ধুও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা সে ডিজাইনটাকে পরিবর্তন করি। একটা সাইট দিয়ে রেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন গেল। ডিজাইনটা ঠিক করা হলো। এটা আমাদেরই করা। শুধু এটা নয় আমরা তিস্তা সেতুসহ অনেকগুলো সেতু করেছি। আমরা পদœা সেতুকে দোতালা সেতু বানাচ্ছি। যদি ফ্লাট সেতু বানাতাম তাহলে দ্রুত হয়ে যেত। আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে এটা করছি। এটা ধীরে ধীরে করছি, এটার খরচ তাই বাড়বে। টাকা বেশী দেবার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জমি কেনার সময় কেনা দামের চেয়ে কম দামে রেকর্ড করে। এখন মুশকিল হলো, রেকড করেছে কম দামে তাই জমি অধিগ্রহণের সময় তারা কম দাম পাচ্ছিল। সে অনুযায়ী খরচ ধরা হয়েছে। কিন্তু জমিওয়ালাদের যাতে ক্ষতি না হয় তাই এখন সে দামের তিনগুণ দামে জমি অধিগ্রহণ করছি। তাই পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ বাড়ছে।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার একটি সুফল পুঁজি বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জে একটা ডিজিটাল পদ্ধতি গড়ে তোলা হয়েছে। পুঁজি বাজারের সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য কর্মীদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা কর্মচারীদের জন্য বেতনভাতা বৃদ্ধি করেছি। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছে। আমরা এখন ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে এসেছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান আমাদের অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। আমরা চাই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উন্নয়ন বাজেট ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আমরা এখন উন্নয়ন কাজের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছি। যার ফলে দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আগে অর্থাৎ বিএনপি’র শাসনামল এবং জেনারেল এরশাদের আমলে বাজেট বাস্তবায়ন করতে বিদেশীদের কাছে হাত পাততে হতো। আর এখন বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এবছর চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আমরা বিগত ৩ অর্থবছর ৭ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এটা কিন্তু কম কথা নয়। প্রবৃদ্ধি সাধারণত এক বছর বাড়ে আরেক বছর কমে যায়। কিন্তু আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দেশ আজ স্বল্পোন্নত নেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ