ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তথ্য প্রযুক্তিতে হ্রাস ও সিগারেটে শুল্ক বৃদ্ধি করে সংসদে অর্থবিল-২০১৮ পাস

সংসদ রিপোর্টার: ইন্টারনেট ব্যবহার, দেশীয় মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ওপর ভ্যাট কমানো হয়েছে এবং সিগারেটের উপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও বেশকিছু পণ্যের ভ্যাটে পরিবর্তন এনে সংসদে অর্থ বিল ২০১৮ পাস করা হয়েছে। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পাস হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আয়কর অধ্যাদেশ, ভ্যাট আইনসহ বাজেট সর্ম্পকিত বিভিন্ন আইন সংশোধনীর প্রস্তাবসহ কন্ঠভোটে অর্থ বিল পাস হয়। বিলের উপরে বিরোধী কয়েজন সংসদ সদস্য ছাটাই ও সংশোধনী প্রস্তাব দিলে তা কন্ঠভোটে নাকচ হয়।
সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট সংক্রান্ত বক্তব্যে ইন্টারনেট সেবার ওপর ভ্যাট কমানো, মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের ওপর ভ্যাট কমানো, কম্পিউটার যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক হ্রাস, কমদামী সিগারেটের ওপর শুল্ক বৃদ্ধিসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়।
অর্থ বিলে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর সংশোধনীতে ১৬৬এ নতুন ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি আয়রকর রিনটার্নে ভুল তথ্য দিলে তাকে তিন বছর পর্যন্তত্ম জেল ও জারিমানা অথবা উভয় দন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাজেটে সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ নিম্নরূপ : অর্থমন্ত্রী নতুন বাজেটে যে সব সংশোধণী এনেছেন তা হলো: তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবাকে অধিকতর সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেবার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের উপর পূর্বের ধারাবাহিকতায় মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রেখে এ শিল্পের অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধুমাত্র স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরের সিগারেটের প্রতি দশ শলাকার মূল্য ১০১ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০৫ টাকা করার প্রস্তাব করছি। উল্লেখ্য, এ বাজেটেই সিগারেটের অন্যান্য স্তরে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জর্দা ও গুল সরাসরি গ্রহণ করার কারণে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশী। তাই এ দুটি পণ্যের উপর মূল্য বাজেটে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বর্তমানে শুল্ক-করসহ মূল্যের পূর্বের অভিঘাত অপরিবর্তিত রেখে প্রতি গ্রাম জর্দার ট্যারিফ মূল্য ১.২০ টাকা এবং প্রতি গ্রামগুলোর ট্যারিফ মূল্য ০.৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণসহ দেশের সকল মানুষ শীতের সময় ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম জেলীর উপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।
এনার্জি বাল্বের উচ্চ মূল্য থাকায় গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তা ব্যবহার করতে পারেনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্বারে দ্বারে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর অঙ্গিকার বাস্তবায়ন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিকট বিদ্যুৎসেবাকে সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে অর্থবছরে ফিলামেন্ট বাল্বের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।
মোটরসাইকেল শিল্পের অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রেখে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এর বিপরীতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে নীট ৭ শতাংশ করা হয়।
বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এয়ার লাইন্সসমূহের বন্দর সেবার উপর ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ইতোপূর্বে এ সেবার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ সেবার উপরে ভ্যাট প্রযোজ্য। ফলে, এ সেবার উপর ৭ জুন, ২০১৮ তারিখে প্রদত্ত ভ্যাট অব্যাহতি উক্ত তারিখ হতে প্রত্যাহার করা হয়।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে মূসক নিবন্ধিত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋরষষবফ গরষশ চড়ফিবৎ (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ১৯০১.৯০.১১) বাল্কে আমদানিতে এর আমদানি শুল্ক ২৫% হতে হ্রাস করে ১০% হারে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এতে দেশীয় দুগ্ধ খামার শিল্প অসমপ্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে পারে। তাই দেশিয় শিল্পের প্রতিরক্ষণের স্বার্থে ঋরষষবফ গরষশ চড়ফিবৎ (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ১৯০১.৯০.১১) এর আমদানি শুল্ক ১০% হতে বৃদ্ধি করে পূর্বের ন্যায় ২৫% করা হয়।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে উৎু গরীবফ ওহমৎবফবহঃ (উগও) এর শুল্ক ১০% হতে ১৫% এ বৃদ্ধি করা হয়। উৎু গরীবফ ওহমৎবফবহঃ (উগও) দেশের জনসাধারণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণের একটি স্বাস্থ্যকর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেই বিবেচনায় দেশের জনসাধারণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে শুধুমাত্র খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাল্কে আমদানিতে উৎু গরীবফ ওহমৎবফবহঃ (উগও) (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ১৯০১.৯০.২০) এর আমদানি শুল্ক পূর্বের ন্যায় ১০% নির্ধারণ করা হয়।
ঘধঃঁৎধষ ইধৎরঁস ঝঁষঢ়যধঃব (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ২৫১১.১০.০০ এবং ২৫১১.২০.০০) ব্যাটারীসহ বিভিন্ন শিল্পে মৌলিক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পণ্যটি আমদানিতে ১০% আমদানি শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল বিবেচনায় পণ্যটির আমদানি শুল্ক ১০% হতে হ্রাস করে ৫% করা হয়।
দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। পণ্যসমূহের উপর বর্তমানে ১০% আমদানি শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। পণ্যসমূহের শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষণ প্রদানের জন্য অক্সিজেন (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ২৮০৪.৪০.০০), নাইট্রোজেন (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ২৮০৪.৩০.০০), আর্গন (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ২৮০৪.২১.০০), কার্বন-ডাই-অক্সাইড (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ২৮১১.২১.০০) এর আমদানি শুল্ক-৫% নির্ধারণ করে রেগুলেটরি ডিউটি ০% হতে বৃদ্ধি করে ২০% আরোপ করা হয়।
হেপাটাইটিস-সি রোগের ঔষধ বর্তমানে দেশে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু উক্ত পণ্যের কাঁচামাল এ কোন সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড না থাকায় উক্ত পণ্য আমদানিতে ৫% আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য হয়। হেপাটাইটিস-সি রোগের ঔষধের অন্যান্য কাঁচামালের ন্যায় বর্ণিত কাঁচামাল দুইটির উপর আমদানি শুল্ক ০% প্রযোজ্য হবে।
অর্থ বিল, ২০১৮ তে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর তৃতীয় তফসিলে হেডিং ৩৮.২৪ এর অধীন এইচএস কোড ৩৮২৪.৯০.২০ এর বিপরীতে উলিস্নখিত পণ্যের উপর ১০% সম্পূরক শুল্ক আরোপিত রয়েছে।
ঝওগ পধৎফ ড়ৎ ঝসধৎঃ পধৎফ প্রস্তুতে কাঁচামলে আমদানি শুল্ক ১৫% হতে হ্রাস করে ১০% করা হয়।
ঔষধ শিল্প খাতের অন্যতম উপকরণ মোড়ক তৈরিতে চঠঈ ঋরষস এবং টহঢ়ৎরহঃবফ ঘুষড়হ ভরষস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পণ্য দুইটি আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০% হতে হ্রাস করে ৫% করা হয়।
বর্তমানে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বমানের গুণগতমান সম্পন্ন কোল্ড রোল্ড এবং কালার কোটেড কয়েল বা শীট তৈরি করছে। এজাতীয় অধিকাংশ পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে ২৫% করা হয়।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে ০.২৫ এমএম পুরুত্বের ফ্লাট রোল্ড প্রোডাক্ট (এইচএস কোড ৭২১০.৬১.১০) এবং ০.৩০ এমএম পুরুত্বের ফ্লাট রোল্ড প্রোডাক্ট (এইচএস কোড ৭২১০.৭০.১০) রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিতে ৫% আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অসমপ্রতিযোগিতায় সম্মুখীন হচ্ছে। তাই দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণের লক্ষ্যে রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ০.২৫ এমএম পুরুত্বের ফ্লাট রোল্ড প্রোডাক্ট (এইচএস কোড ৭২১০.৬১.১০) এবং ০.৩০ এমএম পুরুত্বের ফ্লাট রোল্ড প্রোডাক্ট (এইচএস কোড ৭২১০.৭০.১০) আমদানিতে আমদানি শুল্ক পূর্বের ন্যায় ১০% নির্ধারণ করা হয়।
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে খবধভ ংঢ়ৎরহম আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ২০% হতে হ্রাস করে ১০% নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু দেশীয় লীফ স্প্রিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অসমপ্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হবে বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণের জন্য খবধভ ংঢ়ৎরহম (ঐ.ঝ. ঈড়ফব ৭৩২০.১০.০০) এর আমদানিতে প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক ১০% হতে বৃদ্ধি করে পূর্বের ন্যায় ২০% নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়াও আরো বেশকিছু পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস ও বৃদ্ধি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ