ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৩ জুলাই

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মামলার পেপারবুক সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার (২৭ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামীর প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে ওই দিন বিকালে (৮ ফেব্রুয়ারি) নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।
এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগ ১৬ মে রায় ঘোষণা দেন। রায়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
গত ১৬ মে খালেদাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায় দেন। আপিল বিভাগের রায়ে অনুযায়ী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মামলা শুনানির জন্য গতকাল এই দিন ঠিক করেন।
সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ের নির্দেশনা অনুসারে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার দ্রুত আপিল শুনানি চেয়ে হাইকোর্টে গত ২৪ জুন আবেদন জানিয়েছিল দুদক।
খালেদাকে আটকে রাখতে দুদক-রাষ্ট্রপক্ষ একত্রে কাজ করছে - জয়নাল আবেদীন
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখতে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একত্রে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারাগারে রাখতে (সরকার) রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক একাকার হয়ে গেছে।’
গতকাল বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে দেওয়া পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ঠিক করার পর সুপ্রিম কোর্টেুর সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এ সভাপতি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ডেথ রেফারেন্সের কত মামলা পড়ে রয়েছে ওইসব মামলার শুনানি করছেন না। শুধু খালেদা জিয়ার মামলা দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
জয়নুল আবেদীন বলেন, তারা (দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ) ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তাঁরা জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। খালেদা জিয়াকে কারাবাস দীর্ঘ করার অন্তরালে জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চাওয়া, মামলার দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখতে নানা কূটকৌশল করছে সরকার ও দুদকের আইনজীবীরা।
আপিলের সময় বাড়াতে রিভিউ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
গতকাল বুধবার রিভিউ আবেদনের বিষয়টি জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আপিলের পেপারবুক না পাওয়ায় এ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে আমাদের সময় প্রয়োজন। এ কারণেই শুনানির জন্য সময় চেয়ে এই রিভিউ আবেদন করা হয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ