ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ থেকে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নৌ টহল

সংগ্রাম ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ বাহিনী দু’দেশের সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় যৌথ টহল শুরু করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ এবং ভারতীয় নৌ বাহিনীর জাহাজ ও টহল বিমানের (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) অংশগ্রহণে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জলসীমা থেকে এই টহল শুরু হবে। আগামী ৩ জুলাই ভারতের বিশাখাপত্তমে পৌঁছে টহল শেষ হবে। সমুদ্র এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার, জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- নিরসনের লক্ষ্যে এ যৌথ টহল পরিচালিত হবে।
এ উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ঈসা খানের এসএমডব্লিউটি মিলনায়তনে যৌথ টহলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল সুনীল লানবা।
যৌথ এ টহলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর দ’ুটি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ অংশগ্রহণ করবে।
গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা আবু বকর’ ও ‘বানৌজা ধলেশরী’ এবং এমপিএ (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) এবং ভারতীয় নৌ বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস সাতপুরা’ ও ‘আইএনএস খেদমত’ এবং এমপিএ অংশগ্রহণ করবে।
দু’দেশের এই যৌথ টহল বঙ্গোপসাগরে নিজ-নিজ জলসীমায় সমুদ্র বিষয়ক অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, তথ্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজসমূহ চিহ্নিতকরণ ও বিভিন্ন অপরাধ নিরসনকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলা ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতীয় নৌ বাহিনীর দু’জন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজযোগে এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর দু’জন কর্মকর্তা ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজযোগে বিশাখাপত্তমে যাবেন।
এই যৌথ টহল দু’দেশের জলসীমায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে নৌ বাহিনী প্রধান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্র এলাকায় এককভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, এ সংক্রান্ত তথ্যাদির আদান-প্রদান এবং সমনিত নজরদারি সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা এ অঞ্চলের সমুদ্র বিষয়ক সচেতনতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
বঙ্গোপসাগরে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরণের যৌথ টহল আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ ও ভারতীয় সরকারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে যৌথ এ টহলকে ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ভারতীয় নৌ বাহিনী প্রধানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
যৌথ টহলের সাফল্য কামনা করে ভারতীয় নৌ বাহিনীর প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী সময় পার করছে। বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐতিহাসিক এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’
তিনি বলেন, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের সাথে সহ-অবস্থানে থেকে বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত, সন্ত্রাসবাদ দমন, যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, সমুদ্র সম্পদ রক্ষাসহ ‘ব্লু-ইকনোমির’ উন্নয়নে একসাথে কাজ করে যেতে আগ্রহী। দু’ দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় নৌ বাহিনীর প্রধান বলেন, বর্তমান নৌ প্রধানের নের্তৃত্বে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী এখন এগিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ‘আইএমএমএসএআরইএক্স’র মতো আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া সফলভাবে শেষ করায় তিনি বাংলাদেশের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।
দু’দেশের নৌ বাহিনীর মধ্যকার চলমান এধরনের টহল, সমুদ্র মহড়া, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও ভারতীয় নৌ প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ