ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় চার মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার

খুলনা অফিস : খুলনার ভৈরব নদের তীরে রুজভেল্ট জেটি, খুলনা ওয়াসা ভবনের সামনে ও শিরোমনি এলাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন ইউরিয়া সার।
এদিকে মংলা বন্দর থেকে খুলনা নগরীতে আনা পরিবহন ঠিকাদারকে সার রাখা বাবদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাসের পর মাস ভাড়া গুণতে হচ্ছে। বৃহত্তর খুলনার বিএডিসি’র পাঁচটি গুদামে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তারপরও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত সার আমদানি হয়েছে ছয় মাসে। সৌদি, মরক্কো, কানাডা, বেলরুশ ও তিউনিশিয়া থেকে এসব সার আমদানি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বোরো আবাদ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। এক মাস পরে আমনের আবাদ শুরু হবে। চিংড়ি ঘের ছাড়া অন্য কোন ফসলে এখন নন ইউরিয়া সারের ব্যবহার নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি সার আমদানি হয়েছে ছয় মাস আগে থেকে। আমদানি করা হয়েছে, মরক্কো ও তিউনিশিয়া থেকে টিএসপি, কানাডা ও বেলরুশ থেকে এমওপি, সৌদি ও মরক্কো থেকে ডিএপি সার।
বিএডিসি খুলনার সূত্র জানায়, বিএডিসি’র আমদানি করা সার মংলা বন্দর থেকে বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নবাব এন্ড কোম্পানি, এসএস শিপিং ও নওয়াপাড়া ট্রেডার্স পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে খুলনা নগরীর রুজভেল্ট জেটিতে নিয়ে আসে। গুদামে স্থান না থাকায় মংলা বন্দর থেকে তাদের আনা সার মজুদ করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই তারা খোলা আকাশের নিচে সার ফেলে রেখেছেন।
পরিবহন ঠিকাদার নওয়াপাড়া ট্রেডার্সের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিএডিসির কর্মকর্তারা সার বুঝে না নেয়ায় সামনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সার নষ্ট হলে বিএডিসিকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মংলা বন্দর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের পরিবহনকৃত দুই লাখ ব্যাগ নন ইউরিয়া সার রুজভেল্ট জেটিতে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। এ স্থানের ভাড়া বাবদ মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে ৪৫ লাখ টাকা করে গুণতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলছে চার মাস যাবত।
পরিবহন ঠিকাদার এসএস শিপিং’র কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, মংলা বন্দর থেকে নিয়ে আসা ১৫ হাজার মেট্রিক টন নন ইউরিয়া সার শিরোমনিতে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ মুহূর্তে সার খুলনার বাইরেও পাঠাতে পারছে না। কারণ, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আমন আবাদে আগস্টের আগে সার ব্যবহার হবে না। শিরোমনিতে সার রাখা বাবদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাসে দুই লাখ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।
নাগরিক নেতা শেখ মো. আইনুল হক জানান, খুলনা ওয়াসা ভবন এলাকায় নন ইউরিয়া সারের কেমিকেল বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষা মওসুমে সার মিশ্রিত পানি পার্শ্ববর্তী পুকুর ও জলাশয়ে পড়ে মাছের ক্ষতি করছে। এছাড়া ওই পানি ব্যবহারে মানবদেহে ত্বকেরও ক্ষতি করছে। তিনি লোকালয় থেকে এ সার সরিয়ে অন্যত্র রাখার দাবি জানান।
বিএডিসি খুলনার যুগ্ম পরিচালক (সার) প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, শিরোমনি গুদামের ধারণ ক্ষমতা ৭ হাজার মেট্রিক টন। গুদামের চত্বরসহ সেখানে সাড়ে আট হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ করা হয়েছে। রুজভেল্ট জেটি এলাকার গুদামে তিন হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার স্থলে চত্বরসহ গুদামে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন মজুদ করা হয়েছে। বয়রাস্থ গুদামে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সেখানে আড়াই হাজার মেট্রিক টনই আছে। গুদাম এলাকায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় ৭ নম্বর ঘাট, রুজভেল্ট জেটি ও শিরোমনি এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন ইউরিয়া সার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাতাস ও পানি স্পর্শ করার সম্ভাবনা নেই।
অন্যান্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, বোরো ও আমন মওসুমে নন ইউরিয়ার চাহিদা খুবই কম। তবে শীতকালীন শাক সবজিতে নন ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ