ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুরস্কের নির্বাচন নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র

তুরস্ক থেকে হাফিজুর রহমান : ১৮ এপ্রিল তুরস্কে অগ্রিম নির্বাচনের ব্যাপারটি সামনে আসে এবং পরের দিন ২৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করার পর সবচেয়ে বড় এট্যাক আসে ডলারের বাজার থেকে। ১৫-৩০ দিনের ব্যবধানে ডলার ৪০৩ থেকে ৪৯২তে দাড়ায়। এর মাঝে রমযানে একদিন ভোররাতেই ডলার ০৩০-০৪০ লিরা বেড়ে যায়। সরকার অনেকটা বেকায়দায় পড়ে যায়। বিরোধীরা ফলাও করে প্রচার করে যে, সরকার ব্যর্থ পরিবর্তন জরুরী। পরবর্তীতে সরকার দ্রুত বেশকিছু উদ্যোগ নিলে ডলারের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসে। প্রসঙ্গত, ডলারের দাম-বৃদ্ধি তুরস্কে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
ডলারের বাজার কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পর নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে নতুন আক্রমণ আসে পিঁয়াজ ও আলুর বাজারে। ঈদের পর হঠাৎ করে একরাতেই পিঁয়াজের দাম ১৫০-২ লিরা (২৭-৩৬ টাকা) থেকে ৬ লিরা (১০৮ টাকার মতো) এবং আলু ১-১৫ লিরা (১৮-২৭ টাকা) থেকে ৫ লিরা (৯০ টাকা) হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পিঁয়াজ ৯ লিরা দরেও বিক্রি হতে শুনেছি। তুরস্কের চার বছরের জীবনে আলু-পিয়াজের দাম কখনো এভাবে বাড়তে দেখিনি। সাংসারিক জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দুটি সবজি আলু ও পিয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ভোটে এর বড় প্রভাব পড়তে পারত। বিরোধী দলগুলো আলু-পিঁয়াজ ইস্যুতে বেশ সরগরম ছিল। ওদের পরিবর্তনের আওয়াজে আলু-পিঁয়াজ অন্যতম নেয়ামক শক্তি হিসেবে যোগ হল।
দেশীয় এই চক্রান্তের পাশাপাশি বিদেশী মিডিয়ার একচেটিয়া এরদোগান বিরোধী প্রচারণা ছিল। বিশেষ করে ইকোনোমিস্ট, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি মিডিয়াগুলো এরদোগানের জনপ্রিয়তা কমে গেছে, এরদোগান ম্যাজিক শেষ, দেশে আইনের শাসন নাই, এরদোয়ান স্বৈরাচারী এ ধরনের বেশকিছু প্রচারণা খুব গতি নিয়েই চালাচ্ছিল।
উপরের এই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে তুর্কিদের প্রশ্ন করেছিলাম। বিশেষ করে এরদোগানের ভোটারদের কাছে আলু এবং পেঁয়াজের বাজারের এই অস্তিরতা নিয়ে। তাদের অধিকাংশের উত্তরই এরকম ছিল : আলু-পেঁয়াজ দেখে আমরা এরদোগানকে ভোট দেই না। এরদোগানকে ভোট দেই তার নেতৃত্ব দেখে, তার কাজ দেখে। এরদোগানকে ভোট দেই তাকে ভালোবেসে।
তুর্কি মানুষদের যতটুকু চিন্তে পেরেছি তার সারমর্ম হল, বিদেশী মিডিয়ার কোন প্রচারণা তুর্কিদের বিশ্বাসে চির ধরাতে পারেনা। আই মিন বিবিসি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোকে তারা কেয়ারই করেনা। এটা তাদের প্রচন্ড জাতীয়তাবাদ থেকে।
সবমিলে কথা হল, নেতা যদি জনগণের হয়ে যায় তখন জনগণও নেতার হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ