ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাদ পড়াদের নিয়ে বিশ্বকাপ একাদশ

অরণ্য আলভী তন্ময় : ভাল খেলে কেউ বাদ পড়েন আবার কারও ক্ষেত্রে ইনজুরি হয়ে যায় প্রধান অন্তরায়। যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও কোচের রোষানলে পড়ে বাদ গড়তে হয় খেলোয়াড়দের। সমালোচনার ঝড় বয়ে গেলেও তারা নিজেদের জায়গা থেকে সরে দাঁড়ান না। নিজের দেশ বিশ^কাপে খেলছে অথচ তার জায়গা টিভি সেটের সামনে। বিশ^কাপের আগে দল ঘোষনার পর ফুটবল প্রেমিরা অবাক হয়েছেন, সেসব দলে এবার জায়গা হয়নি তারকা বেশ কয়েকজন ফুটবলারদের। তাদের মধ্যে অন্যতম ইংল্যান্ডের জো হার্ট, স্পেনের মার্কাস অ্যানলসো, ব্রাজিলের ডেভিড লুইস, জার্মানির লারে সানে ও ফ্রান্সের অ্যান্তিনিয়ো মার্শাল। বাদ পড়াদের নিয়ে একটি একাদশও তৈরি করা হয়েছে পাঠকদের জন্য। দারুণ প্রতিবেদন দেখে সবারই ভাল লাগবে।
গোলরক্ষক- জো হার্ট (ইংল্যান্ড)
২০১২ সাল থেকে ইংল্যান্ডের সব বড় আসরেই গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন জো হার্ট। কিন্তু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ‘থ্রি-লায়ন’দের গোলবারের নিচে দেখা যাবে না তাকে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত দলে যে জায়গা হয়নি তার। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইংল্যান্ডের ১০ ম্যাচের ৯টিতেই গোলবারের নিচে ছিলেন হার্ট। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে ইংল্যান্ড (১০ ম্যাচে ৩ গোল)। যেখানে বড় অবদান ছিল হার্টের। দেশের হয়ে ৭৫ ম্যাচ খেলা ৩১ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়াটা তাই মেনে নিতে পারছেন না।
ডিফেন্ডার-মার্কোস অ্যালোনসো (স্পেন)
চেলসির হয়ে এ মৌসুমটা দুর্দান্ত কেটেছে মার্কোস অ্যালোনসোর। দলটির হয়ে গোল করেছিলেন ৭টি। এছাড়াও রক্ষণভাগে নিজের কাজটাও ঠিকমতোই করেছিলেন তিনি। তার মতো ফি-কিক বিশেষজ্ঞকে যে কোন দলই পেতে চাইবে। যদিও জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত এ ডিফেন্ডার খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। হয়তো সে কারণেই স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাকে রাখেননি কোচ লোপেতেগুইয়ে।
ডিফেন্ডার- ডেভিড লুইস (ব্রাজিল)
জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৫০ ম্যাচ। গত বিশ্বকাপেও ছিলেন দলে। কিন্তু এবার তাকে ছাড়াই রাশিয়া যায় দলটি। এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার স্কোয়াডেও জায়গা পাননি তিনি।
ডিফেন্ডার- আয়মেরিক লাপোর্ত (ফ্রান্স)
জাতীয় দলের হয়ে এখনও অভিষেক হয়নি। তাই হয়তো ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আয়মেরিক লাপোর্তের না থাকাটা অবাক হওয়ার মতো কোন ঘটনা না। কিন্তু তার সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় নিলে যে কেউই অবাক হবেন বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ায়। এ মৌসুমে অ্যাথলেটিকো বিলবাও ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে আয়মেরিক লাপোর্ত গোল করেন ৭টি। তাতে তার দলও ঘরে তোলে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
মিডফিল্ডার- ফ্যাবিনহো (ব্রাজিল)
মোনাকোর হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন ফ্যাবিনহো। কিন্তু তারপরও তিতের ব্রাজিল বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি এ মিডফিল্ডারের। তাকে টপকে হলুদ জার্সিধারীদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন ক্যাসেমিরো ও ফার্নান্দিনহো। এরআগে ব্রাজিলের হয়ে ফ্যাবিনহো খেলেছেন ৪টি ম্যাচ। আবার তিনি ছিলেন দলটির দুটি কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্টের সদস্য।
মিডফিল্ডার- জ্যাক উইলশেয়ার (ইংল্যান্ড)
আর্সেনালের হয়ে এ মৌসুমে খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু ইংল্যান্ডের জার্সিতে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে এ বছর দারুণ খেলেছিলেন জ্যাক উইলশেয়ার। যে কারণে সবাই ধারণা করেছিল গ্যারেথ সাউথগেটের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হবে উইলশেয়ারের। কিন্তু তেমনটা হয়নি। তাতে হতাশ ইংলিশ এ মিডফিল্ডার ভক্তরা।
মিডফিল্ডার- রাজদা নাইঙ্গোলান (বেলজিয়াম)
বর্তমান সময়ের সেরা মিডফিল্ডার। এ মৌসুমে রোমার হয়ে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তার। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ তিনি।
মিডফিল্ডার- লেরয় সানে (জার্মানি)
ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতাতে সামনে থেকে এবার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গোল করেছিলেন ১৪টি। ১৯টি করিয়েছিলেন সতীর্থদের দিয়ে। তাতে পিএফএর বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন লেরয় সানে। এরপরও জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাননি তারকা এ মিডফিল্ডার।
ফরোয়ার্ড- অ্যান্থনি মার্শিয়াল (ফ্রান্স)
এদিকে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অ্যান্থনি মার্শিয়ালের জায়গা না পাওয়াটা সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে ভক্তদের কাছে। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩০ ম্যাচে ৯ গোল করেন তিনি। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মার্শিয়াল ৪৫ ম্যাচে ১১ গোল করেন। তবে ম্যানইউর শুরুর একাদশে তাকে সুযোগ পেতে দেখা গেছে কমই। ২০১৫ সালে অভিষেক হওয়ার পর ফ্রান্সের হয়ে ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন মার্শিয়াল। ২০১৬’র ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ ফ্রান্স দলেও ছিলেন মার্শিয়াল। কিন্তু তাকে পারফরম্যান্সের কারণ দেখিয়ে এবার রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে রাখেননি দেশম।
ফরোয়ার্ড- মাওরো ইকার্দি (আর্জেন্টিনা)
২০১৭-১৮ মৌসুমে সিরি লিগে ৩৪ ম্যাচে ২৯ গোল করেছিলেন। তারপরও ইন্টার মিলানের এ অধিনায়কের জায়গা হয়নি আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ইকার্দির বাদ পড়াতেই বিতর্কের শেষ নেই আর্জেন্টিনা দলে। তবে সাবেক আর্জেন্টিনা তারকা ইকার্দির বাদ পড়ার পিছনে সরাসরি দুষছেন মেসিকে। ইকার্দিকে মেসি পছন্দ করেন না। কারণ মেসির খুব কাছের বন্ধু ম্যাক্সি লোপেজের স্ত্রীকে ‘ভাগিয়ে নিয়ে’ বিয়ে করেছেন ইকার্দি! এমনকি ম্যারাডোনার মতো লোকও ইকার্দিকে বলেছিলেন, ‘দুধ-কলা দিয়ে পোষা সাপ’। তবে বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, মেসি-ম্যারাডোনার কারণেই দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।
ফরোয়ার্ড- আলভোরা মোরাতা (স্পেন)
রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিয়ে এ মৌসুমে ভালোই খেলছিলেন আলভোরা মোরাতা, তবে মৌসুমের শেষ দিকে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন তিনি। ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে রেকর্ড ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে স্টামফোর্ড ব্রিজে যোগ দিয়ে ৪৭ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। ক্লাব ফুটবলে সময়টা ভালো না কাটলেও স্পেনের জার্সিতে পারফরম্যান্স কিন্তু দুর্দান্ত। লা রোজাদের হয়ে ২৩ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। এরপরও তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখেননি দলটির কোচ লোপেতেগি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ