ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠি ট্রাক স্ট্যান্ডের জায়গা স্বল্পতা সংস্কার না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ

ঝালকাঠি ট্রাক স্ট্যান্ডের বেহাল দশা। রাস্তার উপরেই মালামাল খালাস করা হয়

মোঃ আতিকুর রহমান, (ঝালকাঠি) : ঝালকাঠি শহরে প্রবশে পথ শহরের গুরুদাম ব্রিজের পূর্ব ঢালে কৃষ্ণকাঠি কবিরাজ বাড়ি রোডের তে মাথায় বালুর মাঠে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী  ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জায়গায় এ ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়। আবাসিক এলাকায় ট্রাক স্ট্যান্ড ঘিরে এলাকাবাসীর দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাও বিরাজ করছিলো। ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণের প্রতিবাদ ও স্বপক্ষে হয়েছিলো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীও। পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণ করতে উত্তেজনাকালী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও করা হয়েছিলো ঘটনা স্থলে। সীমিত জায়গায় নির্মিত ট্রাক স্ট্যান্ডে বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং বর্ষা মৌসূমে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার উপরেই মাল খালাস করা হচ্ছে। এতে স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীদের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পথচারী বা অটোতে করে যাতায়াতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সোমবার সকালের এমন একটি দুর্ভোগ অবস্থার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় ওঠে। বিভিন্ন জনে বিভিন্ন মন্তব্য করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফোরকান হোসাইন ফেসবুক টাইমলাইনে একাধিক ছবি সম্বলিত স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন,  ঝালকাঠি এমনিতেই যানজটমুক্ত এক পরিচ্ছন্ন শহর। কিন্তু এই ছবিগুলো দেখে ঝালকাঠিকে চিনতে কষ্ট হতে পারে। এটি গুাংদাম ব্রিজ সংলগ্ন ঝালকাঠির মূল শহরে প্রবেশের প্রধান সড়ক। মাত্র কয়েক মাস আগে এখানে স্থাপিত হয়েছে ঝালকাঠির ব্যস্ততম ট্রাক স্টান্ড। দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো -গত কয়েক দিনের একটানা বর্ষণে ট্রাক স্টান্ডটি কর্দমাক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই ট্রাক চালকগণ বাধ্য হয়ে রড সিমেন্টের মত ভারী পন্য মূল সড়কের উপরে আনলোড করছেন। এতে যে কোন সময় মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আল্লাহ না করুক কারো জীবনহানি হলে আমরা হয়ত তথাকথিত শোক প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাপ্তি ঘটাব। অথবা কেউ পঙ্গুত্ববরণ করলে জনগণের জটলা সরিয়ে দিয়ে বীর দর্পে আমরা সেখানে আগমন করে সান্তনা জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করব। কিন্তু যা হবার তা হয়ে যাবে। ভাবছেন কি হবে? কেউ মৃত্যুবরন করলে মা তাঁর সন্তান হারাবে, স্ত্রী হারাবে তার স্বামী, জনমদূঃখীনি সন্তান তার পিতাকে হারিয়ে চিরদিনের জন্য ইয়াতিম হয়ে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াবে। তবে ভেবে দেখেছেন? এই মা, স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব কে নিবে? আমরা কেউ হয়ত নিবনা কিন্তু রাষ্ট্র বেচারী এ হতভাগা অসহায় মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের তার বক্ষে ঠাই দিবে ঠিকই কিন্তু এরা সমাজের মূল স্রোত থেকে হারিয়ে রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে যাবে। আর ভাবছেন? পঙ্গু হলে কি হবে? পঙ্গু ব্যক্তি তার কর্মক্ষমতা হারাবে, স্ত্রী-সন্তানেরা কর্মক্ষমতার অধিকারী না হয়েও অর্থ উপার্জন করতে যেয়ে তারাও অপরিনত বয়সে কর্মক্ষমতা হারাবে। সর্বপরি ফলাফল হলো -কর্মহীন এসব মানুষ দেশের জন্য বোঝা হয়ে দেশটাকে পিছিয়ে দিবে। এবার বলুনতো? ওরা কি পিছেয়ে যেতে চেয়েছিল? আমরা মানুষরূপী কতগুলো অমানুষের অসচেতনতা, অদক্ষতা আর অবহেলায় ওরা পিছিয়ে পড়ছে। তারপরও বাহ্ কি চমৎকার আমরাই দেশদরী আর আমরাই জনদরদী। অথচ মাত্র পাঁচ হাজার টাকার বালু দিয়ে আপাতত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কর্তৃপেক্ষের নজড়ে পড়লে হয়ত বিষয়টির সমাধান হবে। ততক্ষণে মারাত্বক কোন দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পার। তাই এলাকাবাসী জাংরী ভিত্তিতে এটি সংস্কারের জোর দাবী জানিয়েছেন। সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা সকালের এ দুর্ভোগের স্থিরচিত্র মোবাইলে ধারণ করে ধারণ করে তার ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোড করে স্ট্যাটাস দেন, ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড থেকে সদর হাসপাতালের সামনে পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ অটোজ্যাম। ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফ জানান, মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বর্ধিত করণ এবং সংস্কার করা যাচ্ছে না। সমাধান হলেই বর্ধিত করণ এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গুরুদাম ব্রিজের পূর্ব ঢালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বার্ষিক কোরবানী পশুর হাট বসে। রাস্তার দু’পাশে এ হাটের বেচা-বিক্রি কার্যক্রম চলতো। সড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না সরকারী এমন নির্দেশনায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত জলাশয়ে বালু ভরাট করে পশুর হাট চালু করে। ২০১৫ সালের ঈদুল আজহার পশুর হাট ওখানেই বসে। কোরবানীর পশুর হাট  শেষে সারাবছর পরিত্যক্ত বালুর মাঠে স্থানীয় বালকরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ