ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীর পোল্ট্রি খামারগুলো ধ্বংসের পথে

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : একটি পোল্ট্রি শিল্পের খামার

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : বিদ্যুৎ, ওষুধ এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বার্ড ফ্লু আতংকে জেলার কুমারখালীর পোল্ট্রি শিল্পের খামারগুলো ধ্বংসের পথে এসে দাঁড়িয়েছে। খামার মালিকরা ব্যবসা বন্দ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা হয়ে পড়ছে বেকার।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় মিলে ১০৫টি পোল্ট্রি খামারের মধ্যে ৭০টি পুরোপুরি বন্দ এবং ৩৫টি খামার কোন মতে টিকে রয়েছে। চালু থাকা খামারগুলোও নিয়মিত বাচ্চা তুলছেনা। ফলে মাঝে মধ্যেই বাজারে ব্রয়লার মুরগী ও ডিমের সংকট দেখা দিচ্ছে। কুমারখালী উপজেলা পশু সম্পদ অফিস ও পোল্ট্রি খামার মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, হাঁস-মুরগীর খাদ্য এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অযৌক্তিক শর্ত ও বার্ড ফ্লু আতংক কুমারখালীর পোল্ট্রি শিল্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরো জানায়, গত ৩/৪ বছর আগেও ব্রয়লারের খাদ্য কোম্পানী ভেদে প্রতি বস্তা ১৫শ থেকে ১৭শ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে ১৯শ থেকে ২৪শ টাকায়  এসে পৌছেছে। সে সময় লেয়ার মুরগীর প্রতি কেজি খোলা খাদ্যের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে সেই খাদ্যের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  কয়েকজন খামার মালিক জানান, খাদ্যের দাম বিভিন্ন কোম্পানী সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয়। তারা মুরগীর বাচ্চা অনেক সময় মূল্যছাড়ে সরবরাহ করে খাদ্যের উপর থেকে ছাড়ের টাকা তুলে নেয়, সে সময় আমাদের কিছুই করার থাকেনা। খামার মালিক আব্দুল করিম বলেন, খাদ্য, বিদ্যুৎ ,ওষুধের দাম অব্যহত ভাবে বাড়লেও ব্রয়লার মুরগী এবং ডিমের দাম বাড়েনা। ফলে দিনদিন লোকসানের কারণে খামারগুলো বন্দ হয়ে যাচ্ছে। কুমারখালী উপজেলা পশু সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৩৭টি লেয়ার খামারের মধ্যে বর্তমানে টিমটিম করে উৎপাদনে রয়েছে মাত্র ১৩টি খামার। এদিকে বিদ্যুৎ অফিস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে শর্ত দিয়েছে। এই শর্তে ৩শটির বেশি মুরগী পালন করলে শিল্প-কারখানার হারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এতে খামার মালিকদের লোকসানের ভাগে নতুন করে  আরো এক দফা যুক্ত হলো। এই নতুন শর্তের ফলে শ্রমিক ও অর্থ বিনিয়োগ করতে মালিক পক্ষ উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। সব মিলে খামারগুলো বন্দ হওয়ার কারণে প্রাণীজ আমিষের যেমন প্রকট সমস্যা দেখা দিয়েছে, তেমনি বাড়ছে বেকারত্ব। অনেকে ধারদেনা কিংবা ব্যাংক লোন নিয়ে খামার করে অব্যাহত লোকসানের কারণে এখন সর্বস্বান্ত। সেড বিক্রি করেও তাদের ধারদেনা শোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। কেউ কেউ বাঁচার তাগিদে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ