ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহ্জাদপুরের যমুনা চরে হাঁস পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী

শাহজাদপুরের যমুনা চরের একটি হাঁস খামার

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): শাহজাদপুরের যমুনা চরাঞ্চলে হাঁস পালনে বেকারত্ব দূর করেছে অনেকেই। চরাঞ্চলে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক পরিবার। শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী,গালা,সোনাতনী,জালালপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম যমুনা চরে অবস্থিত । এসব গ্রামের   কোথাও ধু ধু বালু চর আর কোথাও আঁকা বাঁকা নদীর মোহনা  ও সমতল জমি থাকায় এখানে হাঁস প্রতিপালন অনেকটাই সহজ। চারদিকে নদী-খাল থাকায় প্রচুর শামুক পাওয়া যায় এখানে। যা হাঁসের প্রধান খাদ্য। এর মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জয় করে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে বহু পরিবার। চরগুলোতে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে প্রতিটি পরিবারেই প্রায় গড়ে উঠেছে  হাঁসের খামার। এসব খামারে উৎপাদিত ডিম যমুনা চরের  হাট-বাজার হয়ে চলে যায় শহরের দোকানগুলোতে। আর সম্প্রতি চরাঞ্চলে বেকারত্ব দূর করতে হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে বেকারদের। কৈজুরী ইউনিয়নের ঠুটিয়ার চর,ভাট দিঘুলিয়ার চর,জগতলার চর, সোনাতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার , ছোট চাঁনতারা,বড় চাঁনতারা,ধীতপুর, শ্রীপুর ও সোনাতনীর চর, গালা ইউনিয়নের রতনদিয়ার চর, বাঙালার চর গ্রামের বেকার যুবকরা হাঁসের খামার করছে। । ট্রলার নৌকার মাধ্যমে প্রায়  বর্ষা মৌসুমে ১০ থেকে ২০ মিনিটে নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এইসব চরে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস এই সব গ্রামে। এখানে হাঁস পালন করে অনেকেই বেকারত্ব দূর করেছেন। ভাগ্য বদলেছে এখানকার বহু পরিবারের। বসত ঘরের পাশে নেট (জাল) দিয়ে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। প্রতিটি খামারে ১শ’ থেকে ১ হাজার হাঁস রয়েছে। এসব খামারে কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করছে কথা হয়- হাঁসখামারী জমেলা বেগম (৪০) এর সঙ্গে। তিনি গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাঁস পালন করে আসছেন। বসত ঘরের পাশের জমিতে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। প্রথমে ৫০টি হাঁস দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার প্রায় ৪শ’ হাঁস রয়েছে। দৈনিক প্রায় ১শ’ ডিম হয় তার খামারে। ১শ’ ডিম ৯শ’ টাকা মূল্যহারে বিক্রি হয় দৈনিক। চাঁনতারা গ্রামের সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আরশেদ বলেন, ছোট ও বড় চাঁনতারায় অনেক দিন থেকেই হাঁস পালন করছেন কৃষকরা। তবে সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছ হচ্ছে। হাঁস পালনে স্বল্প খরচ হওয়ায় অনেকেই এর সাথে যুক্ত হচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে সহযোগীতা বা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যমুনা চরের বাসিন্দারা হাঁস পালনে বিপ্লব ঘটাতে পারে।  যদিও যমুনা চরের মানুষ  কৃষি কাজ ও মাছ ধরার পেশায় নিয়োজিত। আবার কেউ কেউ গবাদি পশু-পাখি পালন করে। প্রায় অর্ধশত পরিবার হাঁস পালনের সাথে সম্পৃক্ত। প্রতিটি পরিবারই এখন অভাবকে জয় করেছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায় নিয়মিত। পারিবারিকভাবে প্রায় প্রতিটি বসত ঘরে হাঁস লালন করা হলেও বাণিজ্যিকভাবে বর্তমানে হাঁস পালন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতে করে বদলে যাচ্ছে অনগ্রসর ও পিছিয়েপড়া এই জনগোষ্ঠির জীবনমানসহ সার্বিক চিত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ