ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 June 2018, ১৪ আষাঢ় ১৪২৫, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুশ্রম

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : ইট ভাঙ্গা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে জনৈক শিশু

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে শিশুশ্রম।   যে বয়সে কোমলমতি এসব শিশুদের হাতে বই খাতা, কলম থাকার কথা সে সময়ে জীবিকার তাগিদে, এক মুঠো ভাতের জন্য শ্রম বিক্রি করছে শিশুরা। কোমল শিশুরা কেউ রিক্সা- ভ্যান চালাচ্ছে কেউ  চা দোকান, ওয়ার্কশপ, কাঠের দোকান, গ্যারেজে, বিভিন্ন যানবাহন, তাঁত কারখানা ও  ইট ভাটা কিংবা ভবন নির্মাণের ইট ভাঙ্গা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।  শুধু তাই নয় ঝুঁকিপূর্ণ অনেক পেশাতে ও দেখা যায় ১০ থেকে ১২ বছর কিংবা তার চেয়ে কম বয়সী শিশুকে। শাহজাদপুর উপজেলায় অনেক স্থানে অবলীলায় চলছে শিশু শ্রম। শুধু এ উপজেলায় নয়  সারা দেশে স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পরও বন্ধ হয়নি এই শিশুশ্রম। আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা শিশুশ্রম। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের নেই কোন ধারাবাহিক উদ্যোগ বা কার্যক্রম।  শাহজাদপুর পৌর এলাকা ছাড়াও ১৩টি ইউনিয়নেই বিভিন্ন কাজে শিশু শ্রমিকদের কার্যক্রম চোখে পড়ার মত। একদিকে সরকার শিশুদের শিক্ষায় নানাভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু এরপরও নানা প্রতিকূলতায় রোধ হচ্ছে না এই শিশুশ্রম। শিশু শ্রমিকদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় জন্মের পর থেকেই বাবা-মায়ের সাথে কাজে সহায়াতা করছে। শিশু শ্রমিকদের কেউ আবার স্বামী পরিত্যক্ত মায়ের সন্তান। তাই একটু জ্ঞান বুদ্ধি হলেই মায়ের দুঃখ কষ্ট লাঘব করতে জড়িয়ে পড়ছে শ্রমে। সারাদিন হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ১’শ থেকে ১৫০ টাকা মজুরী পাচ্ছে শিশু শ্রমিকরা।
এরপরে মালিকের নানা রকম বকনী ও মারপিটতো থাকছেই।  এই সব শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই কিছু নীতি বিবর্জিত মানুষের জন্য যাচ্ছে না বিদ্যালয়ে। অনেক শিশু শ্রমের বিনিময়ে পরিবারে সাহায্য করলেও বিদ্যালয়ে থেকে সরে গেলে আর পাচ্ছেনা শিক্ষার আলো। কিন্তু সরকারের বাস্তবমুখী উদ্যোগ ও প্রয়োগের অভাবে অনেক শিশু বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষা ২০১৩-তে এ তথ্য পাওয়া গেছে বাংলাদেশে এখন সাড়ে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কর্মরত শিশুদের মধ্যে নিয়োজিত আছে ১২ লাখ ৮০ হাজার। আর ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে। তাই সময় এসেছে শিশু শ্রম বন্ধ করে স্কুলমুখী করার। এ উদ্দ্যোগ গ্রহণ করতে হলে শিশুশ্রম বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ