ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জবাবদিহিতার ভয়ে বিশ্বব্যাংক আইএমএফ এডিবির ঋণে সরকারের অনীহা

 

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেয় বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশিয়ান ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকাসহ দাতা সংস্থাগুলো। কিন্তু এখান থেকে ঋণ ছাড় করাতে হলে সরকারকে ঋণের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে জবাবদিহি করতে হয়। প্রকল্পে স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা না থাকলে অর্থছাড়ে বেগ পেতে হয় সরকারকে। তারপরও কম সুদে ঋণ পেতে তাদেরই দারস্থ হতে হয়েছে বিগত সরকারগুলোকে। তারা ওইসব দাতা সংস্থার শর্ত মেনেই ঋণ নিয়ে আসছিল। ফলে জবাবদিহিতার মধ্যে থেকেই বড় বড় প্রকল্পে অর্থ ছাড় করাতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ কম হওয়ায় দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণও কম ছিল। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জবাবদিহিতার ভয়ে দাতা সংস্থার কম সুদের ঋণের চেয়ে অন্য দেশের চড়া সুদের ঋণের দিকে ঝুঁকছে। এতে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ হু হু করে বাড়ছে। ফলে চলমান হিসাবে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। যা সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সময় ছিল ১৭ হাজার টাকা। অর্থনীতিবিদরা চড়া সুদের পরিবর্তে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারত, চীন ও রাশিয়ার তুলনায় বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার তুলনামূলক কম। কিন্তু দাতা সংস্থাগুলো থেকে এসব ঋণের জন্য সরকারকে অনেক শর্ত পালন করতে হয়। ঋণের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে জবাবদিহি করতে হয়। এ ছাড়া সুশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়েও তারা অনেক বেশি কথা বলে যা সরকারকে বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়। এ কারণে সরকারও দাতা সংস্থাগুলোর কম সুদের ঋণ না নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে।

দেশে প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়ছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে গত পাঁচ বছরে বৈদেশীক ঋণ ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি পূরণে বিদেশী ঋণ ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সেখানে চলতি অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকায়। আর সর্বশেষ খানা জরিপ অনুসারে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে রাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাব অনুসারে মাথাপিছু ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৫ টাকা।

ঘাটতি বাজেটের চাহিদানুযায়ী দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ ঋণ ছাড় করাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। ফলে বেশি সুদে কঠিন শর্তে অন্যদেশ থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। সরকারের অধিক সুদে ঋণ নেয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বেশি সুদে অধিকহারে ঋণ নিলে দেশের মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়তে হতে পারে। 

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তৃতীয় ঋণ হিসেবে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণের চুক্তি হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ এর আগে প্রথম প্রকল্পগুলোর স্থবিরতার মধ্যেই ২০১৫ সালে দ্বিতীয় দফায় ভারতের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। এ অর্থে ১৪ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ঋণচুক্তির তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বেশির ভাগ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদনই পায়নি। এ ছাড়া কয়েকটি প্রকল্পে ভারতের এক্সিম ব্যাংকেরও অনুমোদন মেলেনি। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেয় ভারত। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েনের সময় ভারত সরকার ওই ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে ১৪ কোটি ডলার পদ্মা সেতুতে অনুদান দেয়। প্রায় সাত বছর পার হলেও ৮৬ কোটি ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা শর্তের কারণে এই অর্থে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে। কাজও দেরিতে হবে। শুধু তাই নয়, পরোক্ষভাবে ঋণের সুদের হারও বেড়ে যাবে। কারণ এর আগে নেয়া বিভিন্ন দেশের ঋণের তুলনায় এ ঋণে শর্ত বেশি এবং পরিশোধের সময়সীমাও কম। 

বৈদেশীক ঋণের নানা শর্তের ব্যাপারে ইআরডি জানায়, ভারতের নতুন ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শতাংশ, দ- সুদ ২ শতাংশ ও প্রতিশ্রুতি ফি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পে ভারতের ঠিকাদার নিয়োগের শর্ত রয়েছে। আর প্রকল্পগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রণয়ন, প্রকল্পের নকশা তৈরি এবং দরপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে। এ ঋণ পরিশোধের মেয়াদ গ্রেস পিরিয়ডসহ হবে ২০ বছর। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কোনো কারণে ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে সুদের বাইরে আরো ২ শতাংশ হারে জরিমানা দিতে হবে।

এর আগে ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানে সমঝোতা স্মারক সই করে চীন। অর্থায়নে ৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে চীন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২ শতাংশ সুদের হার। সার্ভিস চার্জসহ পরিশোধ করতে হবে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ফি ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিশ্রুতি ফি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের সময় দেয়া হয়েছে ২০ বছর (৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ)। এ ছাড়া চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ফি পুরোটা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সরকারের মধ্যে একটি ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ-চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেবে রাশিয়া যা ২০ বছর মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে নানা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের একটি চিত্র তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ। সংস্থার প্রতিবেদন মতে, আলোচিত অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী মিলে দেশে মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে দেশীয় ঋণ ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৩১ কোটি এবং বিদেশী ঋণ ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণ ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণ ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণ ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণ ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশী ও বৈদেশীক ঋণ ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণ ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। 

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়নের পথে গতি আনতে বিনিয়োগ দরকার। এ জন্য ঋণের প্রয়োজন আছে। ঋণের টাকা উন্নয়নে ব্যবহার হয় কিনা তা দেখা দরকার। ঋণের টাকা উৎপাদনে ব্যয় হলে সমস্যা নেই। কিন্তু ভোগে ব্যবহৃত হলে তার প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, সরকার ঠিকমতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে। বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি থাকে, সরকার তাই সে পথে যায় না। দুঃখজনক যে সস্তা সুদের বৈদেশিক ঋণ নিতে পারছি না একশ্রেণির সরকারি কর্মচারীর অযোগ্যতার কারণে। তিনি সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা একটি বিভাগ গঠনের পরামর্শ দেন। 

এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ৩৮টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এসব প্রকল্প সুদমুক্ত। তবে সার্ভিস চার্জ হিসেবে নেবে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর অর্থ পরিশোধ করতে হবে ৩৮ বছরে। যার গ্রেস পিরিয়ড ৬ বছর। এই বছরের কোনো অর্থ বা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে না। আইএমএফের ইসিএফ (এক্সটারনাল ক্রেডিট ফ্যাসিলিটিজ বা বর্ধিত ঋণ সুবিধা) ঋণ নেয়ার বিপরীতে রয়েছে ১৬টি শর্ত। এডিবির ঋণে শেয়ারবাজার উন্নয়নে রয়েছে ১৫টি শর্ত। ঋণ দেওয়ার বিপরীতে এভাবে বিশ্বব্যাংকেরও রয়েছে নানা শর্ত ও পরামর্শ। তবে এসব ঋণ নিতে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার থাকতে হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যদি ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো চড়া সুদ ও শর্তযুক্ত ঋণ অধিক হারে নেয়া হয়, তাহলে এক সময় সেই সুযোগের জায়গা পূরণ হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে ঋণ থাকবে, কিন্তু সেই ঋণ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি কিংবা রাজস্ব আদায় করে সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। ফলে স্পেন ও পর্তুগালের মতো ঋণ জর্জরিত দেশে পরিণত হতে পারে বাংলদেশ। তারা বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও জাইকাসহ বিভিন্ন সংস্থা এ পর্যন্ত আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পাইপলাইনে রয়েছে। দেশে অবকাঠামো দুর্বলতা দূর না হওয়ায় এই অর্থ আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। এ কারণে অবকাঠামো দুর্বলতা দূর না করে চুক্তি করা হলে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। 

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ভারত, চীন ও রাশিয়াসহ উন্নত দেশগুলো এখানে বিনিয়োগ করলে তা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। তবে ঋণের ক্ষেত্রে তারা যেসব শর্ত দিচ্ছে, সেসব ঋণের শর্ত আরো শিথিল করার পদক্ষেপ নেয়া দরকার। ঋণের বিপরীতে যদি ওদের দেশ থেকে পণ্য নিতে হয় তাহলে বাস্তবায়ন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। 

প্রকল্প ব্যয় যদি বাস্তবের তুলনায় বেড়ে যায় তাহলে ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার মতো প্রতিষ্ঠান ঋণ দিচ্ছে দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ হারে। তাদের তুলনায় ভারত, চীন ও রাশিয়ার ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। এ ছাড়া এসব দেশ প্রকল্পগুলোতে কনসালট্যান্ট, ঠিকাদার, দরপত্র আহ্বান, পণ্য কেনাকাটা-সবকিছু যদি তাদের ওখান থেকে আনা হয়, তাহলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে। আর সেটা হলে আমাদের জন্য উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণ নেয়ার বিষয়ে যখন আলাপ-আলোচনা হবে তখন কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুদের হার যতটা কম রাখা যায়, বাংলাদেশের জন্য তত ভালো। এ ছাড়া টাকা ফেরত দেয়া বা রি-পেমেন্ট পিরিয়ড যতটা দীর্ঘ রাখা যায় আমাদের জন্য ততটাই মঙ্গল। এর বাইরে ঋণে গ্রেস-পিরিয়ড যতটা দীর্ঘ রাখা যাবে বাংলাদেশ তত বেশি লাভবান হবে। প্রকিউরমেন্টে যেসব রুলস রেগুলেশন থাকবে তাও যেন আমাদের জন্য সহজ হয়। যারা ঋণ দেয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেশের পণ্য নেয়ার কঠিন শর্ত দেয়। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলকভাবে হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ