ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জিতে কলম্বিয়া আর হেরেও জাপান দ্বিতীয় রাউন্ডে

জাপান-০ পোলান্ড -১

সেনেগাল -০-কলম্বিয়া-১

রফিকুল ইসলাম মিঞা : রাশিয়া বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া ও জাপান। কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর জাপান গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে। গতকাল কলম্বিয়া ১-০ গোলে সেনেগালকে আর পোলান্ড ১-০ গোলে হারায় জাপানকে। তবে কলম্বিয়া জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর জাপান হারলেও চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। এই গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি করে ম্যাচ খেলে সেনেগাল, জাপান আর কলম্বিয়া পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও দুই ম্যাচ শেষে কোনো দলই নিশ্চিত করতে পারেনি দ্বিতীয় রাউন্ড। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে গতকাল এই গ্রুপের চারটি দল মাঠে নামে। এশিয়ার দল জাপান মাঠে নামে পোলান্ডের বিপক্ষে আর সেনেগাল মাঠে নামে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট করে থাকায় জাপান আর সেনেগালের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার জন্য ম্যাচে ড্র দরকার হরেও তিন পয়েন্ট পাওয়া কলম্বিয়ার এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিলনা। তবে জয় নিয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে কলম্বিয়া। আর ম্যাচে হেরে  বিদায় নেয় সেনেগাল। 

গতকাল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুলনা মূলক কম শক্তির দল পোলান্ডের বিপক্ষে জয়ের টার্গেট নিয়েই মাঠে নেমেছিল প্রথম দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সবার উপরে থাকা জাপান। যদিও ম্যাচে জাপানের ড্র করে এক পয়েন্ট পেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে জাপান। তবে দলটির টার্গেট ছিল শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তৃতীয় রাবের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উঠা। তবে পোলান্ডে বিপক্ষে মাঠে নেমে প্রথমার্ধে কোন গোল করতে পারেনি জাপান। অবশ্য পোলান্ডও কোন গোল করতে না পারলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল শুন্য থেকে। বিরতির পর মাঠে নেমে টিকে থাকার ম্যাচে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে পোলান্ড। অবশ্য খেলার ৫৯ মিনিটে একটি গোলও পায় দলটি। পোলান্ডের পক্ষে গোলটি করেন জ্যান বেডনায়েক। শেষ পর্যন্ত জাপান কোন গোল করতে না পারলে ১-০ গোলে জয় পায় পোলান্ড। 

দিনের অপার ম্যাচে মাঠে নেমেছিল সেনেগাল-কলম্বিয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে এই ম্যাচে সেনেগালের ড্র দরকার হলেও জয়ের বিকল্প ছিলনা কলম্বিয়ার। কিন্তু এই ম্যাচটিতেও প্রথমার্ধে কোন দল গোল করে এগিয়ে যেতে পারেনি। যদিও সেনেগাল প্রথমার্ধে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলেছে। একটি পেনাল্টি পেলেও ভিএআরে তা বাতিল হলো। খেলার ১৭ মিনিটে সেনেগাল একটি পেনাল্টি পায়। মানেকে পেনাল্টি বক্সে ট্যাকল করতে গিয়ে ড্যাভিডসন সানচেজও পড়ে যান। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে চালু হওয়া ভিএআর যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তি জানিয়ে দিল, ওটা ফাউল ছিল না। তাই পেনাল্টিও হয়নি। এতে কলম্বিয়া যেন প্রান ফিরে পায়। কিন্তু গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতা হামেস রদ্রিগেজের জন্য বুঝি এবারের বিশ্বকাপ নয়। আধ ঘণ্টা খেলা না যেতেই ইনজুরির কারণে তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে হয় কলম্বিয়াকে। লুইস মুরিয়েল নামেন তার জায়গায়। কিন্তু প্রথমার্ধের বাকি সময়ে গোল করতে পারেনি কোন দল। ফলে এই ম্যাচটিও প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল শূন্য অবস্থায়।  অবশ্য সেনেগাল-কলম্বিয়া ম্যাচটি শুরু হয় প্রবল গতি নিয়ে। দুই দলই একে অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রথম থেকেই। কলম্বিয়া একটু পিছিয়ে থাকায় তাদের লড়াইয়ের প্রয়োজন ছিল বেশি। কিন্তু আফ্রিকান দল সেনেগাল সমান দমে খেলতে জানে। শুরু থেকে আক্রমণ হানতে শুরু করে। এবং ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেই খেলে দলটি। যদিও প্রথমার্ধে গোল পায়নি সেনেগাল। বিরতির রপর খেলা শুরু হলে গোলের নেশায় মেতে ছিল দু’দলই। তবে বিরতির পর প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। খেলার ৭৪ মিনিটে ইয়ারি মিনা দলের পক্ষে গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে নেন। খেলার শেষ বাশি বাজার আগে সেনেগাল গোল করতে না পারলে ১-০ গোলে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ