ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে হবে-- বার্নিকাট

 

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতার-হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের খবর ও পুলিশি হয়রানির বিষয়ে তার দেশ উদ্বিগ্ন। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার মাধ্যমে তা করা সম্ভব। আর এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। কেননা সিটি নির্বাচন এমন হলে জাতীয় নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়বে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ উদ্বেগের কথা জানান মার্শা বার্নিকাট। ‘ডিকাব টক’ নামে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস।

মার্শা বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যে নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। আমরা দেখতে চাই, সরকার তার অঙ্গীকার পূরণ করবে। গণতান্ত্রিক দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই প্রয়োজন সেটি শুধু ভোটের দিন নয়, এ কার্যক্রম আগে থেকেই শুরু করতে হবে। জনগণ যাতে তার পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি-না তার সঙ্গে ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের পরিকল্পনাকেও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই গণতান্ত্রিক নীতি ও ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়টিই আমাদের এ দুই দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আর ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বার্নিকাট বলেন, ওই স্থিতিশীলতা কেবল অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রক্ষা করা সম্ভব। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন যা সহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখবে। বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে চায়। এ জন্য সাংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সক্রিয় গণমাধ্যম, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভের অধিকার এবং সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার মাদক নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছে। এটিকে একটি ভালো উদ্যোগ হিসেবে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ অভিযানে প্রায় ১৫০ জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অথচ যারা মাদক চোরচালানের মূল হোতা তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দূত বলেন, আগের চাইতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও অনেক পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা ও অবকাঠোমোগত সমস্যা রয়েছে। সেসব বিষয়ে পরিবর্তন জরুরি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে না গেলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ক্ষতি হতে পারে। অপর প্রশ্নের জবাবে মার্শা বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে। এই সমস্যার শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সমস্যার ধরণ নিয়েও আমাদের গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তবে রোহিঙ্গা সংকট কঠিন হলেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষকরা জানান, ভোটারের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে সিল মারা, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের হুমকি ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের দাপটসহ সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। আবার কিছু কিছু কেন্দ্রে ভালো ভোটের চিত্রও দেখা গেছে। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও দলের ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘাত, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হলেও বড় ধরনের কোনো গোলযোগ বা রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। তারপরও নয়টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, এজেন্টদের কেন্দ্রছাড়া করার ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছে অভিনব কৌশল। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মূলত বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রছাড়া করার পরই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি করার ঘটনাগুলো ঘটেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটা অংশের বড় ভূমিকা ছিল।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে গত মঙ্গলবার কর্পোরেশনের ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি চার লাখ ১০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ