ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অসুস্থ ৫৮ শিক্ষকের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার: এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের আমরণ অনশনে বাড়ছে উপস্থিতির সংখ্যা। সময় যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে অসুস্থ শিক্ষকদের তালিকাও ততো লম্বা হচ্ছে। আমরণ অনশনের চতুর্থ দিনে আগের দিনের তুলনায় অসুস্থতার সংখ্যা ২০ জন বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৮জন। গুরুতর অসুস্থ পাঁচজন শিক্ষককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রেসক্লাবের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে এমপিওভূক্তির দাবিতে আন্দোলনের ১৯ দিন ও আমরণ অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচির টানা চতুর্থ দিন পার করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষকরা দাবি আদায়ে এমন কঠিন কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনে গতকাল পর্যন্ত ৫৮ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গুরুতর অসুস্থ চারজন শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রেসক্লাবের আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। টানা অভূক্ত থাকায় অনেক শিক্ষক দূর্বল হয়ে পড়েছেন। দূবল হয়ে পড়া শিক্ষকদের শরীরে চলছে স্যালাইন। 

গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত পাশের রাস্তার ওপর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা আন্দোলনের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পেয়ে গত ২৫ জুন থেকে আমরণ অনশন মতো কঠিন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। ‘সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা টি-শার্ট গায়ে ও ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ফিতা মাথায় বেধে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। 

তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বুধবার বাজেটের ওপর আলোচনার সমাপনী বক্তৃতায় বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে এমপিওভুক্তি খাতে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, আংশিক নয়, দেশের স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আন্দোলনে সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা আসছেন এবং আরও আসবেন। 

শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা ৫৮ জনে ঠেকেছে। এর মধ্যে ৪২ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম ২৪ জুনের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে ২৫ জুন থেকে আমরা আমরণ অনশনে বসবো। পূর্বঘোষিত সেই ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৫ জুন সকাল ১০টা থেকে অনশনে বসেছি। যত ঝড়-তুফান আসুক না কেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।

সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত (এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনসহ কিছু ভাতা পান) করা হয়েছিল। বর্তমানে স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে এসব শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনসহ লাগাতার কর্মসূচি শুরু করলে সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেয়া হয়। তখন আন্দোলন স্থগিত করা হয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের যে বাজেট বক্তৃতা দেন, সেখানে নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আবার আন্দোলনে নেমেছেন। অবশ্য অর্থমন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, এক হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা ও কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু নন-এমপিও শিক্ষকরা নতুন নীতিমালা প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেলেও ২০ বছরেও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। বিগত সময়ে স্বীকৃতি দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে কোনো নীতিমলার আওতায় আনা যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ