ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের জমা ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা

 

স্টাফ রিপোর্টার: সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অুযায়ী সে দেশের ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা রাখা টাকার পরিমাণ ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকের রাখা আমানতের পরিমাণ সারা বিশ্বেই কমেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে এসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের আমানত কমেছে দেড় হাজার কোটি টাকা।

টানা পাঁচ বছর বৃদ্ধির পর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী নাগরিকদের আমানত কমেছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের জমার পরিমাণ ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা।

সুনির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও গত কয়েক বছর ধরে দেশভিত্তিক আমানতের পরিমাণ প্রকাশ করে আসছে এসএনবি। সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশী নাগরিকত্ব গোপন কেরে অর্থ জমা রাখলে ওই অর্থ এ হিসাবে অন্তর্ভূক্ত নয়। গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমানও হিসাব করা হয়নি প্রতিবেদনে।

ধনীদের অর্থ দেশটির ব্যাংকে গোপনে গচ্ছিত রাখার জন্য অনেকেরই পছন্দ সুইজারল্যান্ড। গ্রাহকের নাম-পরিচয় গোপন রাখতে কঠোর দেশটির ব্যাংকিং খাত। যে কারণে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকি দিয়ে জমানো টাকা রাখা হয় সুইস ব্যাংকে। 

তবে গত কয়েক বছরে বিষয়টি নিয়ে সুইজারল্যান্ড সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ২০১৭ সালে এসে আমানত কমেছে সুইস ব্যাংকে। অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে গোপনীয়তা কমতে থাকায় অনেক ধনী এখন অবৈধ টাকা জমা রাখার জন্য ঝুঁকছেন লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, পানামা, বারমুডার, এমনকি ঘরের কাছের সিঙ্গাপুরের মতো দেশের দিকে।

এ পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া যায় তাতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা চয় বছর বাংলাদেশীদের আমানত হু-হু করে বেড়েছে সুইস ব্যাংকে। ২০০২ সালে মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ আমানত দেড় দশকে বাড়ে ২২ গুণ। কেবল বাংলাদেশ নয়,সামগ্রিকভাবেও ২০১৭ সালে আমানত অনেক কমেছে সুইস ব্যাংকগুলোতে। দেশটিতে কমেছে ব্যাংকের সংখ্যাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ