ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের রাউতারা বাঁধের শিশুরা শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): রাউতারা বাঁধের শিশুরা

 

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা পুরাতন বেড়ি বাঁধে বসবাসকারি শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। পারিবারিক অসেচতনতা, দারিদ্র্যতার অভাবে বাঁধে বসবাসকারি শতাধিক পরিবারের সিংহভাহ শিশু শিক্ষার আলো বঞ্চিত হয়ে আছে। এসব শিশুদের অধিকাংশই বাবার সাথে নদীতে মাছ ধরা, কিম্বা বিভিন্ন শ্রমে সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সরে জমিনে ঘুরে, বড়াল নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠা পরিত্যক্ত পুরাতন বেড়ি বাঁধের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় কয়েকযুগ ধরে বাঁধে শতাধিক পরিবার  বসবাস করলেও তারা এখনও নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রচন্ড ঝড়, বৃষ্টি, শীত, বন্যাসহ নানা রকম দূর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব পরিবার বসবাস করলেও তাঁদের দেখার মত যেন কেউ নেই। ফলে ক্ষুধা, দারিদ্র্যতা, অভাব অনটন নিয়ে চলছে বাঁধে বসবাসকারি ভূমিহীন এসব পরিবারের মানুষের জীবন। ফলে শিশু সন্তানদের লেখাপড়া করানোর আগ্রহ আছে বম মানুষেরই।  যে বয়সে এসব শিশুদের হাতে খাতা, কলম, বই শোভা পাওয়ার কথা ছিল সেই সময় শিশুদের সিংহভাগ এখনও স্কুলে যায়না।এসব বিষয় নিয়ে শিশুদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্রতা ও অসেচতনতা। দিনমজুর এসব ব্যক্তিদের বেশিরভাগ জীবনজীবিকা চালায় দুঃখ কষ্টের ভিতর দিয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  বাঁধের অদুরে হলেও শিশুরা স্কুলে যায়না। বর্ষা হলে সাগরের মত ভাসতে থাকে ডেরা বেঁধে বসবাস করা এসব পরিবারের শিশুদের ঘরেই আটকে থাকতে হয় দিনের পর দিন। অর্থের লোভে শিশুরা নদীতে মাছ ধরে সময় কাটায়। আবার কেউ বাঁধের বাজারে চায়ের স্টলে সিডি,ভিসিডি দেখে কাটিয়ে দেয় দিন। ৫ বছর ও তাঁর চেয়ে বেশি বয়সী এ এলাকার সিংহভাগ শিশুরা এখনও বিদ্যালয়বিমুখ। কোন অভিভাবক যুক্তি দেখালেন, লেখাপড়া করতে টাকা লাগে। টাকা পাবো কোথায় ? আবার কেউ বললেন, লেখাপড়া শেষ করলে টাকা ছাড়া চাকুরী মেলেনা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে তো কোন টাকা লাগেনা বরং নিয়মিত স্কুলে গেলে সরকার উপবৃত্তি প্রদান করে। এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেও এখানকার অসচেতন অভিভাবকদের নিকট থেকে আশানুরূপ উত্তর মেলেনি। খন বড়াল নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হয়ে অনেকটা টইটুম্বুর আর নতুন পানি দেখে যেন স্বাধ মেটেনা তাঁদের। তাই দলবেঁধে শিশুরা পোষাক ছেড়ে পানিতে ঝাপুরি খেলে পাড় করছে সময়। এতে যেন সামান্য শাসন কিম্বা বাঁধা নেই। নদীর সাথে বসবাস যাদের তাঁদের সন্তানরা শিশুবেলা থেকেই সাঁতার কাটবে এটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু নদীতীরের এসব শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারের পাশাপাশি  বিভিন্ন বেসরকারি কিম্বা এন,জিও সংগঠনের পক্ষ থেকে যথার্থ পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবী। তা নাহলে বড়াল নদীর তীরে রাউতারা বাঁধের বিশাল জনগোষ্ঠি নিরক্ষর থেকে যাবে। শিক্ষার পাশপাশি এলাকার শিশুরাও স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ