ঢাকা, শুক্রবার 29 June 2018, ১৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার জলাবদ্ধতা দূর করতে ৮৪৩ কোটি টাকার নতুন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরী এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এজন্য গত মঙ্গলবার ৮৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘কেসিসির জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প’।

প্রকল্পের মাধ্যমে ময়ূর নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি খাল খনন করে পাড় বাঁধাই করা হবে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য ৮টি স্লুইসগেট পুননির্মাণ করা হবে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৯টি প্রধান সড়কের দুই পাশে ৬২ কিলোমিটার বড় ড্রেন এবং ১২৮ কিলোমিটার এলাকায় ছোঁ ড্রেন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীর ওপর ৩টি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবিরুল জব্বার বলেন, এর আগে এটি ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ছিলো। কিন্তু নবনির্বাচিত মেয়রের দিকনির্দেশনায় বিভিন্ন পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে। মেয়রের অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বুধবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে এবং কাজ শুরু হবে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে খুলনার মানুষ। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীসহ ১২টি খাল খনন করা হয়। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন অংশে যুক্ত অন্য ৭টি খাল করা হয়নি। এছাড়া খনন কাজে অনিয়মসহ নানা কারণে দুই বছরের মধ্যে ময়ূর নদী ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে এখন হাঁটু পানি জমে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় সদ্য সমাপ্ত কেসিসি নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২২টি খাল পুনঃখনন করে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন নবনির্বাচিত মেয়র। তার নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করে কেসিসির প্রকৌশল বিভাগ।

প্রকল্প থেকে জানা গেছে, ৮৪৩ কোটি টাকার প্রকল্পের মূল অংশে রয়েছে ৯টি প্রধান সড়কের ৬২ কিলোমিটার এলাকায় প্রাইমারি ড্রেন নির্মাণ। এতেই ব্যয় হবে ২৪০ কোটি টাকা। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভেতরে সেকেন্ডারি ড্রেন (৩ ফুটের কম ড্রেন) নির্মাণ করা হবে প্রায় ১২৮ কিলোমিটার। এতে ব্যয় হবে ৪৫১ কোটি টাকা।

প্রধান ড্রেনগুলোর মধ্যে মুজগুন্নী মহাসড়কের উভয় পাশে ফুটপাতসহ দুই পাশে ৮ কিলোমিটার ড্রেন, যশোর রোডের ডাকবাংলো মোড় থেকে নতুন রাস্তা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন, খানজাহান আলী রোডের পিটিআই মোড় থেকে রূপসা ঘাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার নতুন ড্রেন, একই সড়কের ফেরিঘাট বাস টার্মিনাল থেকে থেকে ক্যাসেল সালাম হোটেল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার ড্রেন, আপার যশোর রোডের পিকচার প্যালেস মোড় থেকে ১ নম্বর কাস্টমঘাট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ।

এছাড়া ৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিয়ে ময়ূর নদীসহ ৮টি খনন ও পাড় বাঁধাই করা হবে। খালগুলো হচ্ছে ক্ষেত্রখালী খাল, ছড়িছড়া খাল, হরিণটানা খাল, নারকেল বাড়িয়া খাল, তালতলা খাল, নার্সিং ইনিস্টিটিউট থেকে ময়ূর নদী পর্যন্ত খাল, তালতলা খাল, লবণচরা ২ নং স্লুইস গেট খাল।

এছাড়া রূপসা বেড়িবাঁধ, মতিয়াখালী খাল, পোর্টকলোনী থেকে ভৈরব নদ, লবণচরা স্লুইস গেট-১ ও ২, রায়ের মহল স্লুইস গেট স্থানান্তর ও নির্মাণ, রূপসা পাইকারী মাছ বাজার, প্রান্তিক খালের আউটলেট থেকে ময়ূর নদী ও চরের হাটে নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ, আউটলেট খনন ও বাঁধাই করা হবে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, কেসিসি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর একটি মাস্টার প্লান রয়েছে। ওই মাস্টার প্লান অনুযায়ী এই প্রকল্প তৈরি করেছি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে খুলনা শহরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবিরুল জব্বার জানান, এই কাজগুলো আগে করা হয়নি। প্রকল্পের কাজ অধিকাংশ খাল ও ড্রেন ময়ূর ও ক্ষুদে খালে গিয়ে মিশবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে হতে এ দুটি খাল ভরাট হয়ে যাবে। এজন্য প্রকল্পের সঙ্গে ময়ূর ও ক্ষুদে খাল পুনঃখননের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেসিসির নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর আমি দায়িত্ব নেব। এর আগেই প্রকল্পটি যাতে একনেকে অনুমোদন পায় সেই চেষ্টা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ